News update
  • Around 7,500 Bangladeshis imprisoned in Saudi Arabia: Shama Obaed     |     
  • Bangladesh Outperforms India in Global Hunger Index 2026     |     
  • Covered van hits Gazipur police patrol team, killing SI, BNP leader     |     
  • Korean City scrambles to rescue dusky shark after it returns to canal     |     
  • PM inspects Mongla Port, Sundarbans, proposed economic zone     |     

তামিম-মুমিনুলের ব্যাটে এগুচ্ছে বাংলাদেশ

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্রিকেট 2026-08-13, 2:07pm

new_project_10-658134e481f4431655308a990f770c601786608460.jpg




চা-বিরতির পর ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশের লক্ষ্য ছিল যতটা সমম্ভব উইকেটে সময় কাটানো যায়। তবে সেই লক্ষ্য পূরণের দায়িত্ব বেশি সময় পালন করতে পারেননি ওপেনার সাদমান ইসলাম। ফিরেছেন দলকে কিছুটা হতাশ করে। এরপর বাংলাদেশকে এগিয়ে নিচ্ছেন তানজিদ হাসান তামিম আর মুমিনুল হক।

আজ বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) অস্ট্রেলিয়ার ডারউইনে শুরু হয়েছে দুই ম্যাচ টেস্ট সিরিজের প্রথমটি। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ১৬ ওভারে ১ উইকেট হারিয়ে ৫৮ রান করেছে বাংলাদেশ। এখনো পিছিয়ে আছে ১৪০ রানে। ৪৩ বলে ১৯ রানে অপরাজিত আছেন তানজিদ হাসান তামিম আর ২৩ বলে ১২ রানে মুমিনুল হক।   

বাংলাদেশের ইনিংসের গোড়াপত্তন করতে নেমে শুরুটা ভালোই পেয়েছিলেন সাদমান। তবে ইনিংস লম্বা করতে পারলেন না তিনি। উইকেটে থিতু হয়ে মিচেল স্টার্কের বলে নাথান লায়নকে ক্যাচ দিয়ে ফিরলেন সাদমান। ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে এসেছে ৩০ বলে ২০ রান।

এরপর দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে হাল ধরেছেন তামিম আর মুমিনুল। টেস্ট মেজাজে ব্যাটিং করে দলীয় হাফসেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তারা। ৪৬ বল থেকে ২২ রানের জুটি গড়েছেন দুজন।

হাসানের ইতিহাস গড়া বোলিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার সর্বনাশ

অস্ট্রেলিয়ার শঙ্কা জেগেছিল চা বিরতির আগেই গুটিয়ে যাওয়ার। তবে নাথান লায়নকে সঙ্গে নিয়ে তেমন কিছু হতে দেননি স্টিভেন স্মিথ। বিরতি থেকে ফিরে আর পারলেন না অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক। হাসান মাহমুদের শিকার হয়ে ফিরলেন তিনি। এর পরপরই শেষ হলো অস্ট্রেলিয়ার প্রতিরোধও। টিকতে পারল না একদিনও। বাংলাদেশের পেস আগুনে পুড়ে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫৩ ওভার ব্যাট করে ১৯৮ রান করেছে অস্ট্রেলিয়া।

বাকিদের আসা-যাওয়ার মিছিলে একপ্রান্ত আগলে রেখে অভিজ্ঞতার পরিচয় দিচ্ছিলেন স্মিথ। ব্যাটিং ব্যর্থতায় পড়া স্বাগতিকদের টেনে তোলার দায়িত্বটা নিয়েছিলেন নিজের কাধে। ইনিংসে একমাত্র ব্যাটার হিসেবে হাফসেঞ্চুরির দেখাও পেয়েছিলেন স্মিথ, ছুটছিলেন সেঞ্চুরির পথে। তবে সেই আশা পূরণ হতে দিলেন না হাসান।

চা বিরতি থেকে ফেরার পর তৃতীয় ওভারেই হাসানের বলে পুল শট খেলতে গিয়ে লিটন দাসের হাতে ক্যাচ দিয়েছেন স্মিথ। ফিরেছেন ১০৯ বলে ৭১ রান করে।

স্মিথকে ফিরিয়েই ইতিহাস গড়েছেন হাসান। প্রথমবার অস্ট্রেলিয়ায় খেলতে গিয়েই তুলে নিয়েছেন ফাইফার। নিজের পরের ওভারে এসেই অস্ট্রেলিয়ার কফিনে শেষ পেরেক ঢুকে দেন হাসান। লায়নকে (১৩ বলে ৭) ফিরিয়ে গুটিয়ে দেন অস্ট্রেলিয়াকে। ১৭ ওভার বল কের ৫৬ রান দিয়ে ৬ উইকেট শিকার করেন তিনি।

বাংলাদেশের পেস আগুনে পুড়ছে অস্ট্রেলিয়া

চিরচেনা কন্ডিশনেও যেনো অচেনা লাগছে অস্ট্রেলিয়াকে। আর হাসান মাহমুদ-ইবাদত হোসেনদের বোলিং দেখে মনে হচ্ছে কত চেনা কন্ডিশনে বোলিং করছেন তারা। সাফল্যও ধরা দিচ্ছে নিয়মিত। দিনের প্রথম দুই সেশন শেষ হওয়ার আগেই ৭ উইকেট নিজেদের ঝুঁলিতে ভরেছে বাংলাদেশ। সর্বশেষ সাফল্য হাসান মাহমুদের। ফিরিয়েছেন অসি অধিনায়ক কামিন্সকে।

বড় দায়িত্ব নিয়ে মাঠে নেমেছিলেন চোট কাটিয়ে দীর্ঘদিন পরে টেস্ট দলে ফেরা প্যাট কামিন্স। ছয় উইকেট হারিয়ে ফেলা অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলা। কিন্তু স্টিভেন স্মিথকে বেশি সময় সঙ্গ দিতে পারলেন না তিনি। হাসান মাহমুদের বলে ফিরলেন উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে। ফেরার আগে ১৯ বলে ৯ রান এসেছে কামিন্সের ব্যাট থেকে।

এরপর উইকেটে নেমে মিচেল স্টার্ককেও বেশি সময় উইকেটে থাকতে দেননি হাসান। নিজের পরের ওভারে এসেই অসি পেসারের উইকেট তুলে নিয়েছেন তিনি। ৮ বলে ১ রান করেছেন তিনি। একপ্রান্ত আগলে রেখে ব্যাট করে যাচ্ছেন স্টিভেন স্মিথ। তিনিই শেষ ভরসা অসিদের।

তাসকিনের বলে বাংলাদেশের উইকেটের ‘ছক্কা’

উইকেটে এসেই হাত খুলে খেলা শুরু করেছিলেন বেউ ওয়েবস্টার। তাকে বেশি সময় সেই সুযোগ দিলেন না তাসকিন আহমেদ। দারুণ গতিময় বলে উড়িয়ে দিলেন স্ট্যাম্পের বেলস। আরেকটি উইকেটে স্বস্তি ফিরল বাংলাদেশ শিবিরে।

অ্যালেক্স ক্যারি ফেরার পর উইকেটে এসে অ্যাটাকিং ব্যাটিং শুরু করে বাংলাদেশকে চাপে ফেলতে চেয়েছিলেন ওয়েবস্টার। দুটি চারও হাঁকিয়েছিলেন তিনি। কিন্তু চাপ অনুভব না করে উল্টো তাকেই ড্রেসিংরুমের পথ দেখিয়েছেন তাসকিন। ৩৯তম ওভারে ফেরার আগে ১০ বলে ১২ রান করেন ওয়েবস্টার।

ইবাদতের স্যালুটে ভাঙল স্মিথ-ক্যারির জুটি

মধ্যাহ্ন বিরতির আগেই চার উইকেট তুলে নিয়েছিল বাংলাদেশ। নিজেদের চেনা কন্ডিশনেও অচেনা লাগছিল অস্ট্রেলিয়াকে। তবে বিরতির পর বদলে গিয়েছিল চিত্র। অ্যালেক্স ক্যারিকে নিয়ে জুটি গড়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্টিভেন স্মিথ। অবশেষে সেই জুটি ভেঙে সেলিব্রেশনের ট্রেডমার্ক ‘স্যালুট’ দিলেন ইবাদত হোসেন।

চতুর্থ উইকেট জুটিতে বাংলাদেশকে হতাশ করে এগিয়ে যাচ্ছিলেন স্মিথ আর ক্যারি। এই জুটিতে অর্ধশত রান তুলে ফেলেছিলেন দুজন। ৩৭তম ওভারে এসে ক্যারিকে বোল্ড করে সেই জুটি ভাঙলেন এবাদত। ৪৩ বলে ১৯ রান করে ফিরেছেন তিনি।

হাসান-ইবাদতদের ঝলকে প্রথম সেশন বাংলাদেশের

বাংলাদেশকে হতাশ করে উদ্বোধনী জুটিতে এগিয়ে যাচ্ছিল অস্ট্রেলিয়া। টাইগাররাও ভয় পায়নি, দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নিয়ে ম্যাচে ফিরেছে দাপটের সঙ্গে। হাসান মাহমুদ-ইবাদত হোসেনদের পেস আগুনে পুড়েছে ট্রাভিস হেড-মার্নাস লাবুশেনরা। এতে দারুণ একটি সকাল কাটিয়ে মধ্যাহ্ন বিরতিতে গেছে বাংলাদেশ।

হাসান আর ইবাদতের ঝলকে অস্ট্রেলিয়ার তিন টপঅর্ডার ব্যাটারকেই ফিরিয়ে দিয়েছিল বাংলাদেশ। কোনো উইকেট না হারিয়ে ৪৫ রান তুলে ফেলা অস্ট্রেলিয়া পরের ১৬ রান তুলতেই হারায় তিন উইকেট। মধ্যাহ্ন বিরতিতে যাওয়ার আগে বাংলাদেশের সাফল্যের ঝুঁলিতে আরেকটি পালক যোগ করেন তাসকিন আহমেদ।

মধ্যাহ্ন বিরতির ঠিক আগের বলে তাসকিন ফিরিয়ে দেন নতুন ব্যাটার ক্যামেরন গ্রিনকে। উইকেটে এসে কিছুটা ওয়ানডে মেজাজে শুরু করেছিলেন তিনি। তবে লম্বা হয়নি সেই ইনিংস, থেমেছে ১৩ বলে ১৩ রানেই।

উইকেট তুলে নিলেন ইবাদতও

দুই ওপেনারকে হারানোর পর জুটি গড়ার লক্ষ্য ছিল লাবুশেন আর স্টিভেন স্মিথের। তবে সেই লক্ষ্য পূরণ হতে দেননি ইবাদত। ১৯তম ওভারে টাইগার পেসারের বলে খোঁচা দিয়ে দ্বিতীয় স্লিপে নাজমুল হোসেন শান্তর হাতে ধরা পড়েন লাবুশেন। ফেরার আগে ২০ বলে ১ রান।

অস্ট্রেলিয়ায় হাসান জাদুতে দারুণ শুরু বাংলাদেশের

দীর্ঘ ২৩ বছর পরে অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। বোলিংয়ে শুরুটাও হলো ভালোই। টাইগারদের সাফল্য এনে দিয়েছেন হাসান মাহমুদ। প্রথম সকালেই দুই উইকেট তুলে নিয়েছে সফরকারীরা। ফিরিয়েছে দুই ওপেনারকে।

টস জিতে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা ভালোই করেছি অস্ট্রেলিয়ার দুই ওপেনার ট্রাভিস হেড আর জ্যাক ওয়েদারাল্ড। উদ্বোধনী জুটিতেই প্রায় হাফসেঞ্চুরি করে ফেলেছিলেন তারা। এরপরই নিজের ঝলক দেখান টাইগার পেসার হাসান।

১২তম ওভারে ওয়েদারাল্ডকে ফিরিয়ে ভাঙেন এই জুটি। উইকেটের পেছনে লিটন দাসকে ক্যাচ দিয়ে ফেরার আগে তার ব্যাট থেকে আসে ৩৭ বলে ২৩ রান। এরপর বেশি সময় উইকেটে টিকতে দেননি আরেক ওপেনার হেডকেও। নিজের পরের ওভারে এসে ভেঙে দেন হেডের স্ট্যাম্প। ৩৯ বলে ২২ রান আসে তার ব্যাট থেকে।