
Two arrested for journalist assailt in Kalapara
পটুয়াখালী: পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় দৈনিক দেশ রূপান্তর-এর কুয়াকাটা প্রতিনিধি কে এম বাচ্চুকে হাতুড়ি পেটা'র ঘটনায় দায়ের করা মামলায় দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ।
সোমবার রাতে কুয়াকাটা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহিদ সিকদার (ওরফে পচা শহিদ), অন্যজন ৮ নং ওয়ার্ড শ্রমিকদলের সহ-সভাপতি নাসির হাওলাদার। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) তাদের কলাপাড়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৪ জুলাই রাত আনুমানিক ১১টার দিকে কুয়াকাটা মেরিন ড্রাইভ সড়কের হোটেল সৈকত সংলগ্ন এলাকায় সাংবাদিক কে এম বাচ্চুর ওপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটে। হামলায় তার মাথা ও দুই পায়ে গুরুতর আঘাত লাগে। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে কুয়াকাটা ২০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতালে ভর্তি করেন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে তিন দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।
জানা গেছে, চলতি বছরের ২৪ ফেব্রুয়ারি কুয়াকাটায় এক তরুণীকে জোরপূর্বক হোটেল কক্ষে নিয়ে শ্লীলতাহানির চেষ্টার অভিযোগে বায়েজিদ শিকদার নামে এক যুবকের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক কে এম বাচ্চু। ওই ঘটনার জের ধরেই এ হামলা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।
আহত সাংবাদিকের পরিবারের অভিযোগ, কুয়াকাটা পৌর ছাত্রদলের ৮ নম্বর ওয়ার্ড সভাপতি বায়েজিদ শিকদার রানা, পৌর যুবদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক শহীদ শিকদার, ৮ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সভাপতি শহীদ শিকদার, পৌর যুবদলের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক হারুন মুসল্লিসহ আরও চার থেকে পাঁচজন হামলায় অংশ নেন। হামলার সময় কে এম বাচ্চু একা ছিলেন। অভিযুক্তরা তাকে এলোপাতাড়িভাবে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর জখম করে।
কুয়াকাটা পৌর যুবদলের সভাপতি সৈয়দ মো. ফারুক বলেন, বিষয়টি আমরা কেন্দ্রীয় কমিটিকে জানিয়েছি। বর্তমানে জেলা কমিটি না থাকায় আমাদের পক্ষে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
কুয়াকাটা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান হাওলাদার বলেন, সন্ত্রাসীদের দলে কোনো স্থান নেই। ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামীম হাওলাদার বলেন, মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। - গোফরান পলাশ