News update
  • Tarique vows quick execution of Teesta Master Plan if elected     |     
  • How Undecided voters May Decide the Election     |     
  • Nearly one million security personnel to guard BD elections     |     
  • Restoring trust in Allah, Caretaker Govt; good governance, employment, no-revenge BNP's key election pledges      |     

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর 'অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের' নিরপেক্ষ তদন্ত দাবী

Admin1 2026-02-08, 12:26am

govt-seal-22af636f61e9d183cf4f71acd6a248011770488792.jpg

Govt seal



প্রকাশ্যে হত্যার শিকার শহীদ ওসমান হাদির বিচার দাবিতে সমবেত আন্দোলনকারী ও সাংবাদিকদের ওপর গতকাল আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লাঠিচার্জ, টিয়ারশেল নিক্ষেপ ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। রাজনৈতিক সমাবেশ মোকাবিলায় এ ধরনের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ অগ্রহণযোগ্য।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সংযম, সংলাপ ও বিকল্প পদ্ধতি গ্রহণের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও বলপ্রয়োগকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে—যা প্রশাসনের কৌশল ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।

নির্বাচনের মাত্র পাঁচ দিন আগে এ ধরনের সহিংসতা দেশের রাজনৈতিক পরিবেশকে অস্থিতিশীল করে তোলে এবং অযথা উত্তেজনা সৃষ্টি করে। এতে নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। বিভিন্ন মহল থেকে পরিস্থিতি ঘোলা করে নির্বাচন বানচালের অপচেষ্টার অভিযোগ উঠছে। এতে সরকারের ভেতরের কোনো অংশের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সংশ্লিষ্টতা বা মদদ নেই—এটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব সরকারেরই।

শহীদ হাদির হত্যাকাণ্ডের বিচার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের আইনগত ও নৈতিক দায়িত্ব। কিন্তু বিচার দাবিকে কেন্দ্র করে দমন-পীড়ন, অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ এবং ভীতি প্রদর্শন পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে এবং জনবিশ্বাস ক্ষতিগ্রস্ত করে।

একই সঙ্গে আমরা মনে করি, শহীদ হাদির বিচারের দাবিকে সংকীর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হলে তা ন্যায়বিচারের লড়াইকে দুর্বল করবে। যারা শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার আন্তরিকভাবে চান, তাদের সজাগ থাকতে হবে, এই ন্যায়সঙ্গত দাবি যেন কোনো গোষ্ঠীগত রাজনৈতিক স্বার্থের হাতিয়ারে পরিণত না হয়।

আমাদের দাবি:

১. আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের ঘটনার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত করতে হবে এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।

২. শহীদ ওসমান হাদির হত্যার বিচার প্রক্রিয়ার অগ্রগতি জনসমক্ষে প্রকাশ ও দ্রুত নিষ্পত্তি নিশ্চিত করতে হবে।

৩. নির্বাচনকে সামনে রেখে দমন-পীড়ন বন্ধ করে স্বাভাবিক, শান্তিপূর্ণ ও নিরাপদ রাজনৈতিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে এবং যেকোনো ধরনের উসকানি বা ষড়যন্ত্র প্রতিরোধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।

আমরা সহিংসতা নয়, আইনের শাসন চাই। আমরা দমন নয়, জবাবদিহিতা চাই। আমরা ভয়ভীতি-মুক্ত, শান্তিপূর্ণ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চাই। নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী সকল দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের সতর্কতা ও সহনশীলতা অবলম্বন করার আহবান জানাই  যাতে তৃতীয় কোনো শক্তির ষড়যন্ত্রে নির্বাচন বানচালের সুযোগ তৈরী না হয়।

সরকারের পক্ষ থেকে জবাব

শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে বিক্ষোভে বল প্রয়োগের অভিযোগ সম্পর্কে অন্তর্বর্তী সরকার বিবৃতি দিয়েছে। বিবৃতিতে জানানো হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বল প্রয়োগের যে অভিযোগ উত্থাপিত হয়েছে, তা সঠিক নয়। বিবৃতিতে আরো জানানো হয়, বিক্ষোভকারীদের ওপর কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করা হয়নি।

বিবৃতিতে জানানো হয়, হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে ৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ বিকেল থেকে ইনকিলাব মঞ্চের ব্যানারে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনার সামনে বিক্ষোভ শুরু হয়। যমুনা ও এর আশপাশের এলাকায় বিক্ষোভ নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী প্রথমে বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের বল প্রয়োগ করেনি। আজ বিক্ষোভকারীরা ব্যারিকেড ভেঙে যমুনার অভিমুখে অগ্রসর হওয়ার চেষ্টা করলে এবং একপর্যায়ে জলকামানের ওপর উঠে গেলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সাউন্ড গ্রেনেড ও জলকামান ব্যবহার করে। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো ধরনের গুলি ছোড়েনি।

জনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রধান উপদেষ্টার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার স্বার্থে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনা ও সংলগ্ন এলাকায় যেকোনো প্রকার সভা-সমাবেশ, মিছিল, গণজমায়েত ও বিক্ষোভ প্রদর্শন নিষিদ্ধ রয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে পুলিশ সম্পূর্ণ নিয়মতান্ত্রিক ও আইনানুগভাবে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করে। এ সময় কোনো ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র (lethal weapon) ব্যবহার করা হয়নি বলে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসকদের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় আহত হয়ে ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবেরসহ সর্বমোট ২৩ জন চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। তবে তাদের কারও শরীরে গুলির আঘাত নেই বলে কর্তব্যরত চিকিৎসকেরা নিশ্চিত করেছেন।

বিবৃতিতে আরো জানানো হয় শহিদ শরীফ ওসমান হাদি হত্যার বিচারে সরকার বদ্ধপরিকর। জাতিসংঘের অধীনে তদন্ত পরিচালনার আইনগত দিক সরকার গভীরভাবে পর্যালোচনা করছে এবং এ বিষয়ে আগামী ৮ ফেব্রুয়ারি জাতিসংঘের সংশ্লিষ্ট সংস্থার নিকট আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠানো হবে।

বিবৃতিতে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে এই সংবেদনশীল রাজনৈতিক সময়ে সকলকে ধৈর্য, সংযম ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে। আরো জানানো হয় দেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষ অধীর আগ্রহে এই নির্বাচনের অপেক্ষায় রয়েছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি বর্তমানে বাংলাদেশের দিকে নিবদ্ধ। বিদেশি বহু সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষক ইতোমধ্যে বাংলাদেশে উপস্থিত হয়েছেন। বিবৃতিতে দেশের সকল নাগরিকের প্রতি একটি উৎসবমুখর, শান্তিপূর্ণ ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতা ও সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়। আসন্ন নির্বাচন রাষ্ট্রের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। দীর্ঘ সংগ্রাম, আত্মত্যাগ ও রক্তক্ষয়ের বিনিময়ে অর্জিত এই নির্বাচনি সুযোগ জাতির জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করা হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, দেশের সার্বিক অগ্রগতি, স্থিতিশীলতা ও ভবিষ্যৎ উন্নয়ন নিশ্চিত করতে এই নির্বাচনকে অবশ্যই সুষ্ঠু, সুন্দর, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে হবে। এ লক্ষ্য অর্জনে কোনো ধরনের বিচ্যুতি গ্রহণযোগ্য নয়। সরকার বিশ্বাস করে, দেশের সকল নাগরিকের সম্মিলিত দায়িত্বশীল আচরণ ও সহযোগিতার মাধ্যমেই একটি গ্রহণযোগ্য, মর্যাদাপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক নির্বাচন সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব।