News update
  • PM urges collective efforts to ensure pollution-free rivers, liveable environment     |     
  • Relatives hold cremations without bodies for Nepal’s missing flood victims     |     
  • Dhaka ranks 13th among cities with worst air quality on Sunday     |     
  • Dhaka South now worst dengue-hit municipality with 39 deaths     |     
  • Putin renew talks with US envoys at the Kremlin to end Ukraine war     |     

স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদে নিয়োগ শুরু করেছে সরকার

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক হাসপাতাল 2026-09-06, 4:53pm

ministry_of_health-bca530a683ccd7611b33b6ffad6648b41788691997.jpg




নির্বাচনি ইশতেহারের আলোকে তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করেছে সরকার।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ১৩ থেকে ১৬তম গ্রেডে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার ঘোষিত ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের অংশ হিসেবে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এদিকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন স্বাস্থ্য খাতে জনবল সংকট কাটাতে আগামী তিন মাসের মধ্যে ৭ হাজার ৫০০ জন চিকিৎসক এবং ৫ হাজার নার্স নিয়োগ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন। এর মধ্যে ৪৮তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮৪ জন চিকিৎসক আগামী ৭ সেপ্টেম্বর যোগদান করবেন। চিকিৎসকদের মধ্যে সহকারী ডেন্টাল সার্জন পদে ১৯ জন এবং সহকারী সার্জন পদে ১৬৫ জন রয়েছেন।

স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের লক্ষ্যে গত ৩০ জুন স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের প্রশাসন-৩ (মনিটরিং ও সমন্বয়) শাখা থেকে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ে কর্মরত জনবল এবং শূন্য পদের হালনাগাদ তথ্য চেয়ে নির্দেশনা জারি করা হয়।

নির্দেশনায় বলা হয়ে, নির্বাচন-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কার্যক্রমের অংশ হিসেবে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন অধিদপ্তর, সংস্থা ও বিভাগে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং শূন্য পদের পদভিত্তিক তালিকা জরুরি ভিত্তিতে প্রেরণ করতে হবে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে মোট অনুমোদিত পদের সংখ্যা ২ লাখ ৩৪ হাজার ২৪। এর মধ্যে ৭৩ হাজার ৪৫ টি পদ খালি আছে। যা মোট পদের ৩১ দশমিক ২১ শতাংশ।

গত ২০ আগস্ট স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক জালাল উদ্দিন মোহাম্মদ রুমী স্বাক্ষরিত এক পত্রে দেশের সব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের জনবল নিয়োগে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছেন।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের গত ১৪ জুলাইয়ের মাসিক সমন্বয় সভার সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে চিঠিতে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন সব প্রতিষ্ঠানের জনবলের ঘাটতি পূরণের জন্য ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এছাড়া চলতি বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত যেসব স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে শূন্য পদে নিয়োগের জন্য বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও আবেদন গ্রহণ করা হলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া শেষ করা যায়নি, সেসব প্রতিষ্ঠানে নতুন শূন্য পদের ছাড়পত্র নিয়ে আবার নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলা হয়েছে। আগের আবেদনগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত শেষ করতে হবে। এছাড়াও নিয়োগ সংক্রান্ত মামলা বা প্রশাসনিক জটিলতা থাকলে সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির ব্যবস্থা নিতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারে স্বাস্থ্যসেবা খাত নিয়ে বলা হয়েছে, বিএনপি সরকার গঠন করলে প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেবে এবং সারা দেশে শক্তিশালী প্রাইমারি হেলথ কেয়ার নেটওয়ার্ক গড়ে তুলবে। পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন পদে অন্তত ১ লাখ দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে, যার ৮০ শতাংশই হবেন নারী।

নির্বাচনি ইশতেহারের দ্বিতীয় অধ্যায়ের ১৯ নম্বর পৃষ্ঠায় ‘স্বাস্থ্যসেবা’ শিরোনামে উল্লেখ করা হয়েছে, স্বাস্থ্য কোনো সুযোগ-সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার। ‘সবার জন্য স্বাস্থ্য’ নীতির আলোকে সর্বজনীন স্বাস্থ্য সুরক্ষা (ইউনিভার্সাল হেলথ কভারেজ) নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য।

এর আগে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আওতাধীন বিভিন্ন হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে ৩৪ হাজার ৭১৪টি শূন্য পদ দ্রুত পূরণ করতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে চিঠি দিয়েছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।

চিঠিতে বলা হয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এমআইএসের মানবসম্পদ তথ্যব্যবস্থা (এইচআরআইএস) অনুযায়ী, ১১ থেকে ১৬তম গ্রেডে ২০ হাজার ৮১৬টি এবং ১৭ থেকে ২০তম গ্রেডে ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। সব মিলিয়ে শূন্য পদের সংখ্যা ৩৪ হাজার ৭১৪।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস বাসসকে বলেন, তৃণমূল পর্যায়ের মানুষের স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করতে দেশের স্বাস্থ্য খাতের শূন্য পদগুলো পূরণের লক্ষ্যে গৃহীত কার্যক্রম অনেক দূর এগিয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (ডিপিপি) প্রস্তাবনা পাঠিয়েছি। ধাপে ধাপে এই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে। আমরা জনবল নিয়োগের অনুমোদনের জন্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়েছি। অর্থ ও জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অনুমোদন দিলেই আমরা নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করব। আশা করছি খুব দ্রুতই নিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু করতে পারব।

এদিকে পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের অধীন ১১ থেকে ২০তম গ্রেডের মোট ১ হাজার ৮৫৫টি পদে জনবল নিয়োগের জন্য আগে দেওয়া ছাড়পত্রের মেয়াদ বাড়িয়েছে স্বাস্থ্য শিক্ষা ও পরিবার কল্যাণ বিভাগ। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এসব পদে নিয়োগের ছাড়পত্র ২০২৭ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত কার্যকর থাকবে।

ছাড়পত্রের আওতায় পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের সদর দপ্তর পর্যায়ে ১৭ ক্যাটাগরির ১ হাজার ৬৬৭টি এবং জেলা পর্যায়ে ৪ ক্যাটাগরির ১৮৮টি পদ রয়েছে। সব মিলিয়ে নিয়োগের জন্য ছাড়পত্র পাওয়া পদের সংখ্যা ১ হাজার ৮৫৫টি।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। নিয়োগ কার্যক্রম দ্রুত সম্পন্ন করে দেশের সব সরকারি হাসপাতালে বিদ্যমান শূন্য পদে জনবল নিয়োগের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।