News update
  • BNP govt solved Rohingya crisis twice before, will do so again: FM     |     
  • Venezuela earthquakes kill 920, tens of thousands missing     |     
  • Search Continues After Venezuela Quakes Kill 235     |     
  • Dhaka, Beijing sign 13 MoUs to deepen cooperation across key areas     |     
  • China Eyes Teesta Project, Trade Boost With Bangladesh     |     

যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলায় ভেস্তে যাবে সমঝোতা স্মারক?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক সংঘাত 2026-06-27, 11:19pm

img_20260627_231641-52f41df560f287905c9d6f2c348eff621782580744.jpg




গত ১৫ জুন যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের মধ্যে একটি প্রাথমিক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছিল। কিন্তু সেই ঐতিহাসিক চুক্তির মাত্র কয়েকদিনের মাথায় আবারও সরাসরি সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে পড়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলছে। মূলত বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম প্রধান পথ ‘হরমুজ প্রণালি’র নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নিয়েই এই নতুন উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে। খবর আল জাজিরার।

যুক্তরাষ্ট্রের হামলা ও এর কারণ

গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) ওমান উপকূলে সিঙ্গাপুরের পতাকাবাহী একটি বাণিজ্যিক জাহাজ ‘এভার লাভলি’-তে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই হামলাকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির একটি ‘বোকা লঙ্ঘন’ বলে আখ্যা দেন। এর জবাবে শুক্রবার (২৬ জুন) রাতে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) দক্ষিণ ইরানের হরমোজগান প্রদেশের সিরিক অঞ্চলের উপকূলীয় রাডার সাইট ও ড্রোন ও মিসাইল সংরক্ষণাগারে ব্যাপক বিমান হামলা চালায়।

ইরানের পাল্টা হামলা

মার্কিন বিমান হামলার পরপরই ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিগুলোতে পাল্টা হামলা চালায়। আইআরজিসি সতর্ক করে বলেছে, ‘আবারও আগ্রাসন চালানো হলে আমাদের প্রতিক্রিয়া এর চেয়েও ভয়াবহ হবে।’ এদিকে শনিবার (২৭ জুন) বাহরাইন তাদের ভূখণ্ডে ইরানের ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়ে একে সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলেছে। একই দিনে আরেকটি তেল ট্যাঙ্কারেও হামলার খবর পাওয়া গেছে।

হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ

ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের সময় ইরান হরমুজ প্রণালি অবরোধ করলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকট তৈরি হয় এবং ট্রাম্পের ওপর যুদ্ধ থামানোর রাজনৈতিক চাপ বাড়ে।

ইরান এই জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ দাবি করছে এবং এর মধ্য দিয়ে যাওয়া জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক বা ‘টোল’ আরোপ করতে চায়।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানকে কোনোভাবেই বাণিজ্যিক জাহাজ থেকে টোল আদায় করতে দেওয়া হবে না।

ইসলামাবাদের সমঝোতা অনুযায়ী, ইরান আগামী ৬০ দিনের জন্য কোনো ফি ছাড়াই জাহাজ চলাচলের নিরাপদ রুট দিতে রাজি হয়েছিল। কিন্তু এই ৬০ দিন পর কী হবে, তা নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা চলার মাঝেই এই সংঘাত শুরু হলো।

সমঝোতা স্মারক কি ভেস্তে যাবে?

বিশ্লেষকদের মতে, এই পাল্টা হামলা ১৫ জুনের সমঝোতা স্মারককে চরম ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দিয়েছে। মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ লিখেছেন, ‘চুক্তি নিয়ে দ্বিমত থাকলে ফোনে কথা বলা যেত, কিন্তু সহিংসতার জবাব সহিংসতা দিয়েই দেওয়া হবে।’

তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি অত্যন্ত নাজুক হলেও কোনো পক্ষই এই মুহূর্তে পূর্ণাঙ্গ কোনো যুদ্ধে জড়াতে চাচ্ছে না, বরং প্রত্যেকেই জলপথে নিজেদের শক্তি ও নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার চেষ্টা করছে।