
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আমাদের এখন চোখ রাঙানো হয়, এসব চোখ রাঙানো আমরা ভয় করি না। প্রস্তুত থাকুন, চুড়ান্ত ডাক এলে আবার বের হতে হবে।
ছয় দফা দাবি আদায়ে ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম অভিমুখে লংমার্চে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে ফেনীর মহিপালে পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে জামায়াত আমির এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশবাসী ভালো নেই, গ্যাস নেই, বিদ্যুৎ নেই। ছয় মাস হয়েছে গণহত্যার একটা বিচারেরও অগ্রগতি নেই। প্রথম দিন থেকে এ সরকার জনগণের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছে। বাংলাদেশ ছাড়া আমাদের আর কোনো ঠিকানা নাই। আমাদের ওপর অত্যাচারের স্ট্রিম রোলার চালানো হয়েছে। আমরা কোনো দাদার বাড়ি বা পিসির বাড়ি চলে যাইনি।
জামায়াত আমির বলেন, নতুন করে ফ্যাসিবাদের পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছি। আমাদের এখন চোখ রাঙানো হয়, এসব চোখ রাঙানো আমরা ভয় করি না। প্রস্তুত থাকুন, চুড়ান্ত ডাক এলে আবার বের হতে হবে।
ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে পথসভায় বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহবায়ক নাহিদ ইসলাম, এবি পার্টির মুজিবুর রহমান মঞ্জু ও এলডিপির কর্ণেল অলি আহমদসহ ১১ দলের কেন্দ্রীয় নেতারা।
পথসভায় এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেন, সংসদে সংসদীয় স্বৈরতন্ত্র চালু করেছে বিএনপি। দুর্নীতি ও সিন্ডিকেটে জড়িয়ে সরকারি দল দেশে জ্বালানি সংকট তৈরি করেছে৷ গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও দেশের তেল-গ্যাসসহ চলমান সংকট নিরসন না হলে গদিতে থাকতে পারবেন না৷
এলডিপির কর্ণেল অলি আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, হাসিনা চলে গেছে কিন্তু বর্তমান সরকার হাসিনার স্টাইলে দেশ চালাচ্ছে।
মাওলানা মামুনুল হক বলেন, আমরা পরিষ্কার ভাষায় বলতে চাই, গণভোট অবৈধ হলে পরবর্তী নির্বাচনটি বৈধ হতে পারে না। সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষের ভোটও অবৈধ। তারা বাংলাদেশের মানুষকে হাইকোর্ট দেখানোর চেষ্টা করছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করা না হলে বিএনপিকে চূড়ান্তভাবে লালকার্ড দেখানো হবে।
আখতার হোসেন বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে তারা দেশ চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। জনগণ গণভোটে নতুন বাংলাদেশের পক্ষে রায় দিয়েছে। সেই গণভোট নিয়ে নয়-ছয় করা যাবে না৷ জাতির সাথে প্রতারণা করে সংবিধান সংস্কারের পরিবর্তে সংশোধনের কমিটি করেছে সরকার।
এবি পার্টির চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, গত ছয় মাসে বিএনপির আভ্যন্তরীণ কোন্দলেই ৩১ জন মারা গেছে। তারা ইতোমধ্যে দেশ চালাতে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে৷
নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, তারা আমাদের লংমার্চের টাকার হিসেব করে। আমরা বলবো- সিন্ডিকেট করে কত হাজার কোটি টাকা লুট করছেন তার হিসাব দিন। আমাদের ঘরে গ্যাস নাই, বিদ্যুৎ নাই, আমরা বিল দিচ্ছি, আমাদের টাকা কোথায় যায়? গণহত্যার খুনিদের বিচার ও গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না হওয়া পর্যন্ত আমরা ঘরে ফিরবো না। কথা ছিল এ সরকার চাকরি দিবে, উল্টো চাকরি কেড়ে নিচ্ছে, কৃষক সার সংকটে পড়ছে৷
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন, গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতি বন্ধ; আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধের প্রতিবাদে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্য এই লংমার্চের আয়োজন করেছে।