News update
  • PM to address UNGA in Bangla today     |     
  • UNGA President Warns Against Fading Attention to Rohingya     |     
  • PM Proposes Five Urgent Steps to Resolve Rohingya Crisis     |     
  • Govt Appoints Indonesian Firm to Operate Cox’s Bazar SPM     |     
  • ADB lowers Bangladesh’s growth forecast to 4 % in FY2027     |     

মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহার বাড়ানোর তাগিদ

মৎস 2026-09-24, 4:18pm

20260924_162241-f193c650e12d27ef23ecbcca626aee801790245744.jpg

Speakers at a seminar on Renewable Energy for the Protection of Fisheries, Now, held at the National Press Club on Thursday, 24 Sept. 2026.



গ্রীণওয়াচ ডেস্ক

ঢাকা, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬: সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে ১০ হাজার মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুতের যে লক্ষ্য নিয়েছে, তা পূরণে মৎস্য খাত হতে পারে সবচেয়ে প্রস্তুত অংশীদার; ঘেরের আইল, বেড়িবাঁধ, অবতরণ কেন্দ্র, বরফকল ও হিমাগারের ছাদে সৌর বসানোর জায়গা যেমন আছে, তেমনি আছে পাম্প, অ্যারোটর ও বরফকলের মতো দিনের বেলার নিশ্চিত বিদ্যুৎ-চাহিদা। আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘মৎস্য সম্পদের সুরক্ষায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ শীর্ষক আলোচনা সভার মূল প্রবন্ধে এ কথা বলা হয়।

‘নবায়নযোগ্য জ্বালানি, এখনই’ (Renewables Now) প্রচার অভিযানের অংশ হিসেবে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকুয়াকালচার বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও DRDF-এর চেয়ারম্যান মীর মোহাম্মদ আলী। সঞ্চালনা করেন সুন্দরবন ও উপকূল সুরক্ষা আন্দোলনের নিখিল চন্দ্র ভদ্র।

বক্তব্য রাখেন ইঞ্জিঃ মোঃ আশরাফ উদ্দিন বকুল এমপি, বিথিকা বিন্তে হোসাইন এমপি, মোস্তফা কামাল মজুমদার সম্পাদক, গ্রীণওয়াচ ঢাকা, ডঃ মোঃ আনিসুর রহমান, সাবেক মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বিএফআরআই, সিনিয়র সাংবাদিক রফিকুল ইসলাম আজাদ, আবদুল কাইয়ুম, সাবেক জেলা মতস ্কর্মকর্তা, মতস অধিদফতর, ঢাকা প্রমূখ। 

সরকারের লক্ষ্য, মৎস্য খাতের সুযোগ

সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুতের ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে আনার লক্ষ্য নিয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ছাদভিত্তিক ও ৪ হাজার ৫০০ মেগাওয়াট ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ। বর্তমানে দেশে সৌর সক্ষমতা প্রায় ১ হাজার ৪৬২ মেগাওয়াট। হ্যাচারি, পুকুর-ঘের, মাছ ধরার নৌকা, জেলেপাড়া, অবতরণ কেন্দ্র, বরফকল, হিমাগার ও শুঁটকি প্রক্রিয়াজাতকরণ; মূল্যশৃঙ্খলের প্রতিটি ধাপে সৌর প্রযুক্তি ব্যবহার করে খামারের জ্বালানি ব্যয় সর্বোচ্চ প্রায় ৮০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব। চাঁপাইনবাবগঞ্জে একটি মাছের পুকুরে ৮০০ কিলোওয়াটের ভাসমান সৌরবিদ্যুৎকেন্দ্র ২০২৩ সাল থেকে জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ দিচ্ছে, মাছ চাষও চলছে আগের মতো।

উৎপাদন বাড়ছে, প্রাকৃতিক উৎস সংকুচিত

২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে মাছ উৎপাদন হয়েছে ৫১ দশমিক ১১ লাখ টন; খাতটি জিডিপির ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ ও কৃষিজ জিডিপির ২২ দশমিক ০৩ শতাংশ অবদান দেয় এবং প্রায় ২ কোটি ৬০ লাখ মানুষের জীবিকা এর ওপর নির্ভরশীল। তবে প্রবৃদ্ধি নেমেছে ১ দশমিক ৮৫ শতাংশে, যা পাঁচ বছরে সর্বনিম্ন। সামুদ্রিক মাছ চাষ বছরে ৭ দশমিক ০৬ লাখ টন থেকে কমে ৫ দশমিক ৬৮ লাখ টনে নেমেছে। ১৯৮৩-৮৪ সালে মোট উৎপাদনের ৬৩ দশমিক ৫৯ শতাংশ আসত নদী-হাওর-বিলের মতো মুক্ত জলাশয় থেকে, ২০২৩-২৪ সালে তা ২৮ দশমিক ১৩ শতাংশ। দেশের ২৫৩টি মিঠাপানির মাছের ৬৪টি প্রজাতি বিপন্ন।

জাতীয় মাছ ইলিশের উৎপাদন ২০২২-২৩ সালের ৫ দশমিক ৭১ লাখ টন থেকে ২০২৪-২৫ সালে ৫ দশমিক ০৪ লাখ টনে নেমেছে; চলতি বছরের অনানুষ্ঠানিক হিসাব ৫ লাখ টনের নিচে। ইলিশের গড় দৈর্ঘ্য ১৪ দশমিক ৫৬ থেকে ১৩ দশমিক ৩৯ ইঞ্চিতে নেমেছে, আর মেঘনায় ইলিশের খাদ্য-প্লাংকটন কমেছে প্রায় ৬৮ শতাংশ।

অভয়ারণ্যের পাশে কয়লাবিদ্যুৎ

প্রবন্ধে বলা হয়, পটুয়াখালীর আন্ধারমানিক ইলিশ অভয়ারণ্যের ঠিক পাশে ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াটের পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্র; প্রায় ১০ কিলোমিটার উজানে তেঁতুলিয়া অভয়ারণ্য, দুটি মিলে বছরে প্রায় ১০ হাজার টন ইলিশ দেয়। কয়লা পরিবহন হয় গলাচিপা নদী দিয়ে, যা ইলিশের উজান-পরিবহনের প্রধান পথ। রামনাবাদ চ্যানেলে পটুয়াখালী ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট, বিষখালী নদীর তীরে তালতলী ৩০৭ মেগাওয়াট এবং সুন্দরবনের কাছে পশুর নদীর তীরে রামপাল ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট কেন্দ্র রয়েছে। সংশ্লিষ্ট অভয়ারণ্য এলাকায় পানির তাপমাত্রা চালুর আগের তুলনায় ৩ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত বেশি পাওয়া গেছে; পায়রা-সংলগ্ন এলাকার গবেষণায় ছাই থেকে আর্সেনিক, পারদ ও ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতু জলাশয়ে মেশার প্রমাণ মিলেছে। ইলিশ হ্রাসের কারণ বহুমাতৃক: নাব্যতা হ্রাস, অবৈধ জাল, অতিআহরণ ও জলবায়ু পরিবর্তন; তবে কয়লাকেন্দ্রের দূষণ নীতিগত সিদ্ধান্তে এড়ানো যায় এমন চাপ।

রামপাল: সরকারের ইতিবাচক দৃষ্টান্ত

সরকার সম্প্রতি সংসদে জানিয়েছে, রামপালের দ্বিতীয় পর্যায়ে কয়লার বদলে ৪৬০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ এবং মাতারবাড়ির অব্যবহৃত ছাই-পুকুরে ৭০ মেগাওয়াট সৌরবিদ্যুৎ হবে। বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের ৪৪২ মেগাওয়াটের প্রকল্পটি রামপালের ১৯৮ দশমিক ৫ একর খালি জমিতে, বিদ্যমান সঞ্চালন সফলভাবে সমন্বয় করে বাস্তবায়িত হবে; ইঞ্জিনিয়ারিং প্রাকটিস সহ ১ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলারের এই বিনিয়োগ সাশ্রয় আনিবে পারে, পুঠিয়াখালী ও রামপালীর মতো আবাসন-সংলগ্ন কেন্দ্রগুলোর আবর্তে একই মডেলের স্থানীয় রুপান্তর ঘটিয়ে জ্বালানির আমূল বদল

সাত দফা সুপারিশ

১. আবাসন ও প্রকল্পসমূহের কঠোর তদারকি, যেখানে আবাসন শিল্প ও শিল্পক্ষেত্রসমূহে কঠোর মানদণ্ড ও তদারকি, প্রধান ট্রানজিট লিংকেজ ও ডিস্ট্রিবিউশন গ্রিডের উন্নয়ন

২. গৃহস্থালিতে ও উইন্ডমিল প্রকল্প: স্থানীয় গ্রিডলাইন গঠন, গ্রিডে বিদ্যুত ইনজেক্ট, স্মার্ট গ্রিডের পাইলটিং, খাড়ি ও বাঁধের সংলগ্ন বায়ুভিত্তিক প্রতিরোধী ব্যবস্থা

৩. পরিবেশ রক্ষার্থে জাতীয় 'কয়লা থেকে নবায়নযোগ্য' রুপান্তর ফান্ডের গঠন

৪. ১০ হাজার মেগাওয়াট লক্ষ্যের মধ্যে নির্দিষ্ট 'নবায়নযোগ্য' উৎস নির্ধারণ

৫. সৌরভিত্তিক পাম্প, অ্যারোবেটর, লবণাক্ততা ও ড্রেনেজ প্রযুক্তি ও দক্ষ ব্যবহার প্রোটোকল প্রবর্তন, নদী ও বৃহৎ নদীর তলদেশে

৬. বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্থান নির্ধারণ ও পরিবেশ রক্ষার্থে মৎস্য অধিদপ্তর ও বিআইডব্লিউটিএ-এর মতামত বাধ্যতামূলক করা

৭. সুন্দরবন ক্ষতিগ্রস্ত কলোস্ট্রিয়ালদের যথাযথ ক্ষতিপূরণ ও ন্যায়সঙ্গত পুনর্বাসন