News update
  • Uncertainty over possible US-Iran talks as Trump extends ceasefire     |     
  • Bangladesh eyes broader bilateral engagements with African nations     |     
  • Trump Extends Iran Ceasefire, Seeks Time for Talks     |     
  • SSC and Equivalent Exams Begin Nationwide     |     
  • US, Iran Signal War Readiness as Talks Hang in Balance     |     

সুইপারের মেয়ের বিয়ের দাওয়াতে গিয়ে প্রশংসায় ভাসছেন ডিসি

বিবিধ 2026-04-22, 11:29am

r5tretertert-78353774233ccfa64dca4d85d4a642bb1776835743.jpg




হরিজন (সুইপার) সম্প্রদায়ের কোনো ব্যক্তির মেয়ের বিয়েতে জেলা প্রশাসক যোগ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত এমন কোনো ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাসে হয়ত ঘটেনি। তবে ব‍্যতিক্রমী ও উদার এ কাজটি করে নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছেন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

যার মেয়ের বিয়েতে ডিসি দাওয়াতে গেছেন তিনি পরিচ্ছন্নতাকর্মী রতন বাসফোর। বাড়ি গাজীপুর মহানগরীর ২৬নং ওয়ার্ডের নিয়ামত সড়ক, পশ্চিম বিলাশপুর এলাকায়। 

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) রাতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন কর্মকর্তার অপ্রত্যাশিত উপস্থিতি একপ্রকার সমাজচ্যুত হরিজনদের মধ‍্যে বয়ে নিয়ে আসে খুশির বন্যা। কেউ কেউ খুশিতে প্রণাম করতে থাকেন জেলা প্রশাসকসহ উপস্থিত কর্মকর্তাদের।

হরিজন সম্প্রদায় হলো দক্ষিণ এশিয়ার একটি অনগ্রসর ও দলিত জনগোষ্ঠী, যারা ঐতিহ্যগতভাবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বা সুইপারের পেশায় নিয়োজিত। সেই হরিজন সম্প্রদায়ের বিয়ের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত হন গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া।

অনুষ্ঠানে ডিসি ছিলেন মা হারা এতিম কনে কলেজ শিক্ষার্থী প্রীতি রানী বাসফোর পক্ষের আমন্ত্রিত অতিথি। কনের বাবা শ্রী রতন বাসফোর বাংলাদেশ হরিজন ঐক্য পরিষদের গাজীপুর মহানগরের একজন কর্মী। দীর্ঘদিন ধরে তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশনে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। তার স্ত্রী মৃত সীমা রানি বাসফোর গাজীপুরে অবস্থিত ডুয়েটে পরিচ্ছন্নতাকর্মী হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করেছেন। তারা তাদের মেয়ে প্রীতি রানি বাসফোরকে শিক্ষিত করেছেন এবং তিনি এখন একটি মহিলা কলেজে অধ্যয়নরত।

জেলা প্রশাসকের এমন উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে এলাকাবাসী বলেন, যখন কোনো উঁচুতলার মানুষ বা জনপ্রতিনিধি সামাজিক মর্যাদায় পিছিয়ে থাকা মানুষের অনুষ্ঠানে উপস্থিত হন, তখন তা সামাজিক সমতার বার্তা দেয়।

জেলা প্রশাসক মো. নূরুল করিম ভূঁইয়া বলেন, আমাদের বাংলাদেশে ধর্ম, গোষ্ঠী, বর্ণ, নারী-পুরুষ বা জন্মস্থান নির্বিশেষে রাষ্ট্র সকলকেই সমানভাবে আসীন করেছে। কাজেই আমরা সকল শ্রেণি পেশার মানুষকে একত্রে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। গাজীপুরকে একটি সমতা ও ঐক্যের জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার পেছনে আমরা কাজ করছি। মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসা ও সম্মান প্রদর্শন আমাদের কর্তব্য, এ বার্তা সমাজের সবার কাছে পৌঁছে দিতে হবে। কোনো পেশাই অমর্যাদার না, অসম্মানের না, কম গুরুত্বপূর্ণ না। এ কথা আমরা বিশ্বাস করতে চাই ও সবাইকে করাতে চাই।

অনুষ্ঠানে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ছাড়াও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সোহেল রানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহরিয়ার নজির ও সহকারী কমিশনার মো. মাশরাফিকুর রহমান আবরার উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলা প্রশাসকের আগমনের খবর পেয়ে সাংবাদিকসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত হন বিয়ের অনুষ্ঠানে। ওই এলাকায় প্রায় তিনশোর অধিক হরিজন পরিবার বসবাস করেন।