
‘গভীর নলকূপের পাইপ পড়ে গেলে নাটোরের কৃষক তারা মিয়ার তৈরি খাঁচা দিয়ে দ্রুত তাকে তোলা যাবে’ এ বিষয়ে খবর প্রচার হয় সময় সংবাদে। আর এ খবর প্রচারের পর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স এই প্রযুক্তি গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে। খাঁচা তেরির কারিগর তারা মিয়ার ডাক পড়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের প্রধান কার্যালয়ে।
নাটোর সদর উপেজলার বড়বাড়িয়া গ্রামের কৃষক তারা মিয়ার খাঁচা নিয়ে পরীক্ষা করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী বিভাগের কর্মকর্তারা। ১২ ইঞ্চি প্রস্তের গভীর গর্তে শিশুদের মতো ওজনের কাঠের গুঁড়ি ফেলে তারা মিয়ার তৈরি খাঁচা দিয়ে তুলেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা।
ফায়ার সার্ভিসের ঢাকার কর্মকর্তারা ভিডিও কলে এই উদ্ধার অভিযান ও খাঁচার কার্যক্রম দেখেন সরাসরি। কয়েক দফা সফল পরীক্ষার পর তাকে ঢাকা হয় ঢাকায়। খাঁচাটি দিয়ে গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে যাওয়া শিশুকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব বলে জানায় পরীক্ষায় অংশ নেয়া ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তারা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা আসেন তারা মিয়ার বাড়িতে। তার খাঁচাটিতে লাইটের পাশাপাশি ক্যামেরা স্থাপন করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। এগুলো স্থাপন করে দফায় দফায় গভীর নলকূপের পাইপে পরীক্ষা করেন ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা। সব পরীক্ষায় সফলতা আসার পর খাঁচাটি আধুনিকরেনর সিধান্তে আসে ফায়ার সার্ভিস।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের রাজশাহী বিভাগের উপ-পরিচালক মঞ্জিল হক জানান, প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা সফল হয়েছে। ঢাকার কর্মকর্তারা সরাসরি ভিডিও কলে পরীক্ষার বিষয়টি দেখে তাকে ঢাকায় আমন্ত্রন জানিয়েছেন। তবে এই প্রযুক্তিতে কিছু সংযোগ করা লাগবে বলে জানান তিনি।
কৃষক তারা মিয়া ঢাকায় আমন্ত্রণ পেয়ে খুশি। তারা মিয়া বলেন, বিভিন্ন সময় গভীর নলকূপে শিশুরা পড়ে মারা যায়। দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলে দুর্ঘটনা কবলিত শিশুদের জীবিত উদ্ধার সম্ভব। সেই চিন্তা থেকে তিনি এই খাঁচা আবিস্কার করেন। ২শ’ থেকে ৩শ’ ফুট গভীর নলকূপের পাইপে পড়ে গেলে শিশু পড়ে উদ্ধার করা সম্ভব। খাঁচাটা নামিয়ে দিয়ে মোটা সুতার মাধ্যমে তৈরি করা লক শিশুর নিচে আটকে যাবে। এরপর পাইপ টেনে তুললেই খাঁচার সাথে উঠে আসবে শিশু।