
মালয়েশিয়া থেকে পণ্যবোঝাই কন্টেইনার নিয়ে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে যাত্রাকালে থাইল্যান্ডের ফুকেট উপকূলে একটি কন্টেইনার জাহাজ ডুবে গেছে। পানামার পতাকাবাহী জাহাজটিতে থাকা ১৬ জন বাংলাদেশি নাবিককে নিরাপদে উদ্ধার করেছে থাই নৌবাহিনী।
শনিবার স্থানীয় সময় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ‘এমভি সিলয়েড এআরসি’ নামের জাহাজটি হঠাৎ কাত হয়ে ডুবতে শুরু করে। এ সময় জাহাজে থাকা দুই শতাধিক কন্টেইনার সাগরে ছড়িয়ে পড়ে। পাশাপাশি জাহাজ থেকে বিপুল পরিমাণ তেল সাগরের পানিতে মিশে যায়, যা পরিবেশগত উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
জানা যায়, জাহাজটি মালয়েশিয়ার পোর্ট কেলাং বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের পথে ছিল। ফুকেট উপকূল থেকে প্রায় ৪ নটিক্যাল মাইল দূরে গভীর সমুদ্রে পৌঁছালে জাহাজটি প্রায় ৩০ ডিগ্রি কাত হয়ে আংশিকভাবে ডুবে যায়। পরিস্থিতি দ্রুত অবনতি হলে জাহাজের ক্যাপ্টেন সেটিকে পরিত্যক্ত ঘোষণা করেন।
খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে থাই নৌবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেন। জাহাজে থাকা ১৬ জন নাবিকই বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের উদ্ধার করে ফুকেটের একটি হোটেলে রাখা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নাবিকরা সবাই সুস্থ আছেন।
উল্লেখ্য, জাহাজটি গত ৫ ফেব্রুয়ারি পোর্ট কেলাং বন্দর থেকে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা দেয় এবং ১২ ফেব্রুয়ারি বন্দরে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে কী কারণে জাহাজটি কাত হয়ে ডুবে গেছে, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
থাইল্যান্ডের প্রভাবশালী দৈনিক দ্য ন্যাশন এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্ধার অভিযান শেষ হওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে যৌথভাবে জরিপ কার্যক্রম শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এ কাজে থাই নৌবাহিনী, ফুকেট দুর্যোগ প্রতিরোধ ও প্রশমন কর্তৃপক্ষ, সামুদ্রিক পুলিশ, কুসলধাম ফুকেট ফাউন্ডেশনের স্বেচ্ছাসেবক দল এবং সামুদ্রিক ও উপকূলীয় সম্পদ অফিস-১০ অংশ নিচ্ছে।
একই সঙ্গে সাগরে ছড়িয়ে পড়া কন্টেইনার উদ্ধার এবং তেল দূষণ অপসারণের কাজও শুরু হয়েছে।