News update
  • Prioritise Multilateralism to Resolve Iran War Humanitarian Crisis     |     
  • From drought to deluge: ‘Super’ El Niño’s expanding reach     |     
  • Messi Bids Farewell to Argentina After 21-Year Career     |     
  • Toyota Tsusho briefs PM on plan to manufacture vehicles in Bangladesh     |     

ডিসেম্বরের মধ্যেই পুরোপুরি ডিজিটাল হচ্ছে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম

স্মার্ট বন্দর তৈরিতে বড় উদ্যোগ

বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস) বানিজ্য 2026-10-07, 10:34am

img_20261007_103639-967b52ad0044ea1f861b6ce923cfbece1791347810.jpg




দেশের সমুদ্রপথে বৈদেশিক বাণিজ্যের প্রধান প্রবেশদ্বার চট্টগ্রাম বন্দরের সব কার্যক্রমকে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে পুরোপুরি কাগজবিহীন ও ‘স্মার্ট’ বন্দরে রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্যাপক ডিজিটাল রূপান্তরের উদ্যোগ নিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ (চবক)।

এ উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রম আধুনিকায়ন, পরিবহন ব্যয় কমানো, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে দীর্ঘদিনের যানজট নিরসনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের (চবক) চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে সম্প্রতি অনুষ্ঠিত অগ্রগতি পর্যালোচনা সভার পর এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সভায় বিদ্যমান ডিজিটাল সেবার পরিধি বাড়ানো, বিভিন্ন বিভাগের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মধ্যে সমন্বয় এবং অবশিষ্ট ম্যানুয়াল কার্যক্রম বন্ধের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।

তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চট্টগ্রাম বন্দর রেকর্ড পরিমাণ ৩৪ লাখ টিইইউ (২০ ফুট দীর্ঘ) কনটেইনার, ১৩ কোটি ৮০ লাখ টন সাধারণ পণ্য এবং ৪ হাজার ২৭৩টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে। দেশের সমুদ্রপথে পরিবাহিত সাধারণ পণ্যের প্রায় ৯২ শতাংশ এবং কনটেইনার ভিত্তিক বাণিজ্যের ৯৮ শতাংশ এ বন্দরের মাধ্যমে পরিচালিত হয়।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, আমদানিকারক, রপ্তানিকারক, শিপিং লাইন, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, ফ্রেইট অপারেটর, কাস্টমস ও ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্টদের জটিল ও বহুমাত্রিক কার্যক্রম বিবেচনায় প্রকৃত দক্ষতা নিশ্চিত করতে বিচ্ছিন্ন অনলাইন সেবার পরিবর্তে সমন্বিত ডিজিটাল ব্যবস্থা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, নতুন উদ্যোগের মাধ্যমে বন্দরের কার্যক্রমের প্রতিটি স্তরে ডিজিটাল অটোমেশনের পরিধি বাড়ানো হবে। ইতোমধ্যে জাহাজের বিলের ১০০ শতাংশ অনলাইনে প্রক্রিয়াকরণ করা হচ্ছে।

বন্দর সূত্র জানায়, সদ্য প্রতিষ্ঠিত ওয়ান-স্টপ সার্ভিস সেন্টারের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংক পিএলসির সঙ্গে অ্যাপ্লিকেশন প্রোগ্রামিং ইন্টারফেস (এপিআই) সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে। এর ফলে কনটেইনার ও কনসাইনি বিলিং কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস)-এর সঙ্গে পুরোপুরি যুক্ত করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, আমদানিকারক ও তাদের মনোনীত অভ্যন্তরীণ সেবাদানকারী এজেন্টরা সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সরকারি ছুটির দিনসহ সার্বক্ষণিক অর্থ পরিশোধ করতে পারবেন। পাশাপাশি নির্ধারিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে পরিশোধ না করা বন্দরের পাওনা স্বয়ংক্রিয়ভাবে আদায়ের জন্য ‘অটো-পুল পেমেন্ট সিস্টেম’ চালু করা হবে।

বন্দর সূত্র আরও জানায়, গত জুলাইয়ে টার্মিনাল অপারেটিং সিস্টেম (টিওএস)-এর সঙ্গে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেমের সমন্বয়ের মাধ্যমে আমদানি কনটেইনারের ডেলিভারি অর্ডার ডিজিটালাইজেশনের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ফলে এখন আমদানিকারকরা কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই অনলাইনে প্রয়োজনীয় নথির অগ্রগতি অনুসরণ করতে পারছেন।

সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, বন্দরের প্রবেশ ও বহির্গমন পথে যানবাহনের দীর্ঘ সারি কমাতে ‘টাইম স্লট ম্যানেজমেন্ট’, অনলাইন কার্ট টিকিট ও ই-গেট পাস চালু করা হচ্ছে। ইকুইপমেন্ট ইন্টারচেঞ্জ রিসিপ্ট (ইআইআর) ই-গেট পাসের সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে ট্রাক প্রবেশ, পণ্য বোঝাই ও বের হওয়ার সময়সূচি পূর্বনির্ধারিত ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় পরিচালিত হবে।

তিনি বলেন, কাস্টমসের নিলামজাত পণ্য সরবরাহ, বিশেষ ডেলিভারি কার্যক্রম এবং ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপোর (আইসিডি) কার্যক্রম এনবিআর ও কাস্টমসের এপিআইয়ের মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট সব লজিস্টিকস অংশীদারের মধ্যে তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য আদান-প্রদান সম্ভব হবে।

বন্দর সচিব বলেন, বাল্ক পণ্য হ্যান্ডলিংয়েও ডিজিটাল ব্যবস্থা সম্প্রসারণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণাধীন বে-টার্মিনালে যানবাহনের চলাচল নিয়ন্ত্রণে স্লটভিত্তিক ডিজিটাল পার্কিং টিকিট ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।

সৈয়দ রেফায়েত হামীম বলেন, ডিজিটাল রূপান্তরের প্রয়োজনীয় ভিত্তি ইতোমধ্যে তৈরি হয়েছে। চলতি বছরের শুরুতে চালু হওয়া বন্দরের ‘পোর্ট সিঙ্গেল উইন্ডো-সিপিএ স্কাই’ প্ল্যাটফর্মে একক লগইনের মাধ্যমে বন্দরের বিভিন্ন সেবা গ্রহণের পাশাপাশি ডিজিটাল রাডার ও জাহাজের গতিবিধি তাৎক্ষণিকভাবে পর্যবেক্ষণের সুবিধা রয়েছে।

তিনি জানান, বর্তমানে টিওএস ড্যাশবোর্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে ৬০ হাজার থেকে ৬৫ হাজার গেট প্রবেশ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এক দিনে সর্বোচ্চ ৭ হাজার ৮০টি গেট পাস ইস্যুর রেকর্ডও রয়েছে।

বন্দর সূত্র জানায়, জাহাজ বন্দরে আসা, বিল পরিশোধ, কাস্টমস ছাড়পত্র থেকে শুরু করে পণ্য খালাস ও চূড়ান্ত সরবরাহ পর্যন্ত পুরো বহুমাত্রিক কার্যক্রমকে একটি সমন্বিত ও অনুসরণযোগ্য ডিজিটাল ব্যবস্থার আওতায় আনা হবে। এর মাধ্যমে পণ্য খালাসে সময় কমানো, রাজস্ব আদায় ত্বরান্বিত করা এবং বন্দরের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনায় গতি আনার পাশাপাশি উন্নত বিশ্বের বন্দরগুলোর মতো স্বয়ংক্রিয় ও প্রযুক্তিনির্ভর সমুদ্রপথের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্য কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আনা হবে। সূত্র: বাসস