News update
  • 12 Chinese companies interested to invest over $9bn in Bangladesh     |     
  • BNP govt solved Rohingya crisis twice before, will do so again: FM     |     
  • Venezuela earthquakes kill 920, tens of thousands missing     |     
  • Search Continues After Venezuela Quakes Kill 235     |     
  • Dhaka, Beijing sign 13 MoUs to deepen cooperation across key areas     |     

জ্বালানি সংকটে গভীর চাপের মুখে বৈশ্বিক অর্থনীতি

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক বানিজ্য 2026-04-24, 8:49am

rtyrgerterter-9833df1d795fada8f0389f0f0277e6e21776998991.jpg

২৩ এপ্রিল ভোরে চীনের পূর্বাঞ্চলীয় জিয়াংসু প্রদেশের লিয়ানইউনগাং বন্দরে কন্টেইনার ও জাহাজ দেখা যাচ্ছে। ছবি: এএফপি



ইরান যুদ্ধজনিত জ্বালানি সংকটের প্রভাবে বৈশ্বিক অর্থনীতি ক্রমশ চাপের মুখে পড়ছে। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় কারখানাগুলো চাপে পড়েছে এবং সেবা খাতেও কার্যক্রম দুর্বল হয়ে পড়ছে। আজ বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

বিশ্ব অর্থনীতি এখনও পর্যন্ত বড় ধরনের ধাক্কা সামাল দিতে সক্ষম হলেও, প্রায় দুই মাস ধরে চলা এই সংঘাতের প্রভাব ধীরে ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। এতে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ছে, খাদ্য সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হচ্ছে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে দেওয়া হচ্ছে। খবর রয়টার্সের। 

এসএন্ডপি গ্লোবালের জরিপে দেখা গেছে, ইউরোপীয় অঞ্চলের ২১টি দেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে রয়েছে। মার্চে যেখানে সূচক ছিল ৫০ দশমিম ৭, তা এপ্রিলের প্রাথমিক হিসাবে নেমে এসেছে ৪৮ দশমিক ৬ এ। যা অর্থনৈতিক কার্যক্রম সংকোচনের ইঙ্গিত দেয়।

উৎপাদন খাতে ইনপুট মূল্যসূচক ৬৮ দশমিক ৯ থেকে বেড়ে ৭৬ দশমিক ৯-এ পৌঁছেছে, যা কারখানাগুলোর ব্যয় বৃদ্ধির চিত্র তুলে ধরে। একই সময়ে সেবা খাতের সূচকও ৫০ দশমিক ২ থেকে কমে ৪৭ দশমিক ৪-এ নেমে গেছে।

এসঅ্যান্ডপি গ্লোবালের প্রধান অর্থনীতিবিদ ক্রিস উইলিয়ামসন বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে ইউরোজোন গভীর অর্থনৈতিক চাপে পড়ছে। সরবরাহ সংকট আরও বাড়লে প্রবৃদ্ধি কমবে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ বাড়বে।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রে অর্থনৈতিক কার্যক্রম কিছুটা বেড়েছে। তবে সেখানে যুদ্ধজনিত সরবরাহ সংকটের প্রভাবে আতঙ্কে কেনাকাটার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ডেলিভারি সময় ও উৎপাদনমূল্য কোভিড-পরবর্তী সংকটের সময়কার মতো উচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।

ম্যানুফ্যাকচারিং পিএমআই ৫৪ দশমিক ০-এ উঠে ৪৭ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। আর নতুন অর্ডারের সূচকও বেড়েছে। তবে সেবা খাতের দুর্বলতা সামগ্রিক প্রবৃদ্ধিকে টেনে নামাচ্ছে।

অন্যদিকে জাপান, ভারত, যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্সে উৎপাদন বেড়েছে। যা অনেক ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় আগাম উৎপাদন বৃদ্ধির ফল। জাপানে ২০১৪ সালের পর সবচেয়ে বেশি উৎপাদন বৃদ্ধি হলেও খরচও দ্রুত বেড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই আগাম উৎপাদন পরে কার্যক্রম কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

বিভিন্ন বহুজাতিক কোম্পানি ইতোমধ্যে যুদ্ধের কারণে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা জানিয়েছে। রয়টার্সের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ২৬টি কোম্পানি তাদের আর্থিক পূর্বাভাস কমিয়েছে বা প্রত্যাহার করেছে। ৩৮টি কোম্পানি মূল্য বৃদ্ধি করার ইঙ্গিত দিয়েছে এবং ৩২টি কোম্পানি সরাসরি আর্থিক ক্ষতির সতর্কতা দিয়েছে।

জ্বালানির দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশে মুদ্রাস্ফীতি বেড়েছে। যদিও জ্বালানি বাদে মূল মুদ্রাস্ফীতি এখনও তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত।

প্রযুক্তি ও আর্থিক খাত তুলনামূলক ভালো করছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় (এআই) বিনিয়োগ বাড়ায় প্রযুক্তি খাতে প্রবৃদ্ধি বজায় আছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় চিপ রপ্তানি বাড়ায় অর্থনীতি গত ছয় বছরে সর্বোচ্চ প্রবৃদ্ধি পেয়েছে।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) চলতি বছরের বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধির পূর্বাভাস কমিয়ে ৩.১ শতাংশ করেছে এবং সতর্ক করেছে, সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে বিশ্ব অর্থনীতি মন্দার দিকে যেতে পারে।

অক্সফোর্ড ইকোনমিক্সের বিশ্লেষক জেমি থম্পসন বলেন, অতীতের জ্বালানি সংকটের মতো এ যুদ্ধের প্রভাবও দীর্ঘস্থায়ী হতে পারে। তাদের জরিপে দেখা গেছে, প্রতি চারটি ব্যবসার একটি মনে করছে এই সংকটের প্রভাব চলতি বছরের পরেও থাকবে।