News update
  • PM Calls for Integrated Urban Planning on Water Management     |     
  • Bangladesh Offers Japan Gateway to $3bn Regional Market     |     
  • Monsoon-driven waves main cause erosion in Ganges-Brahmaputra-Meghna Delta      |     
  • 25 Workers killed in Sikkim Teesta Tunnel Disaster     |     
  • Mothers still lack support to breastfeed, UN warns     |     

এবার ফ্রান্সের ১৯৯৮ বিশ্বকাপ জয় নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য ফাঁস

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ফুটবল 2026-08-04, 11:40am

img_20260804_113850-22e5929d8b30f0dfdad03293083a071f1785822079.jpg




ফ্রান্সের ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপ জয়কে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে দেশটির সাবেক ক্রীড়ামন্ত্রী মারি-জর্জ বুফের বিস্ফোরক স্বীকারোক্তি। তিনি জানিয়েছেন, ঘরের মাঠে অনুষ্ঠিত সেই বিশ্বকাপের আগে ফরাসি জাতীয় দলের খেলোয়াড়দের ওপর আকস্মিক ডোপিং বিরোধী পরীক্ষা স্থগিত রাখা হয়েছিল, যাতে দলের প্রস্তুতিতে কোনো ধরনের বিঘ্ন না ঘটে।

‘জিদান, দ্য ক্রিয়েশন অব লিজেন্ড’ শীর্ষক একটি তথ্যচিত্রে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বুফে বলেন, সরকার ও ফরাসি ফুটবল ফেডারেশনের সিদ্ধান্তেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল। তবে তার এই বক্তব্য ২০১৩ সালে সিনেট কমিশনের কাছে দেওয়া শপথযুক্ত সাক্ষ্যের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তখন তিনি এমন কোনো হস্তক্ষেপের অভিযোগ অস্বীকার করেছিলেন।

ঘটনার সূত্রপাত ১৯৯৭ সালে টিগনেসে ফ্রান্স দলের অনুশীলন ক্যাম্পে পরিচালিত আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের নিযুক্ত চিকিৎসক অ্যালাইন গার্নিয়ারের তত্ত্বাবধানে হওয়া ওই পরীক্ষায় সব খেলোয়াড়ের ফলাফল নেগেটিভ এলেও দল এবং তৎকালীন কোচ আইমে জ্যাকে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানান। তাদের দাবি ছিল, এমন পরীক্ষা বিশ্বকাপ প্রস্তুতিতে অপ্রয়োজনীয় বাধা সৃষ্টি করছে।

ডা. গার্নিয়ারের দাবি, এরপর তাকে মৌখিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয় যে বিশ্বকাপের আগে ফরাসি দলকে আর কোনো আকস্মিক ডোপিং পরীক্ষার মুখোমুখি করা হবে না। তার ভাষায়, “আমাকে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছিল, বিশ্বকাপের আগে ফরাসি দলকে আর বিরক্ত করা যাবে না। অর্থাৎ, আর কোনো আকস্মিক পরীক্ষা নয়।”

এই বক্তব্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে বুফে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, “ডা. গার্নিয়ার যদি এটা বলে থাকেন, তাহলে হ্যাঁ, সেটাই সত্য।” যদিও তিনি সঠিক শব্দচয়ন মনে করতে পারেননি, তবে নির্দেশনার মূল অর্থ একই ছিল বলে স্বীকার করেন।

বুফের দাবি, এটি শুধু তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত ছিল না। ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন পর্যায়, এমনকি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে নির্দেশনা এসেছিল বলে তিনি ইঙ্গিত দেন। তার ভাষায়, আমরা নিশ্চয়ই মন্ত্রণালয়গুলোর কাছ থেকেই নির্দেশনা পেয়েছিলাম।

উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, ১৯৯৮ বিশ্বকাপের পর ডোপিংবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম মুখ হয়ে ওঠেন মারি-জর্জ বুফে। ১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ডোপিংবিরোধী প্রথম বড় আইন প্রণয়নের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি। এ বিষয়ে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের পর আমরা আবার ডোপিংয়ের বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করি।

বুফের সাম্প্রতিক এই স্বীকারোক্তি ফুটবল বিশ্বে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে ১৯৯৮ সালের বিশ্বকাপের আগে ফ্রান্স দলের জন্য ডোপিংবিরোধী নিয়ম শিথিল করার সিদ্ধান্ত কতটা নৈতিক ছিল এবং এর প্রভাব নিয়ে ভবিষ্যতে আরও তদন্তের দাবি উঠতে পারে।