News update
  • Bangladesh, Iran Speakers Discuss Bilateral Ties     |     
  • 40 Killed as Bus Plunges Into Ravine in Pakistan     |     
  • Budget steps help stabilize prices of essential commodities     |     
  • Bangladesh likely to face flooding in July-August     |     
  • China open to other countries for economic corridor: Envoy Yao Wen     |     

কেপ ভার্দের চমক থামিয়ে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনা

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ফুটবল 2026-07-04, 9:53am

new_project_14-bd1c53eeba5eb0023d64424fb8b474a61783137200.jpg




নাটকীয়তা, রোমাঞ্চ আর থ্রিলার– কোনো কিছুরই কমতি ছিল না আর্জেন্টিনা-কেপ ভার্দে ম্যাচে।

যেনো পয়সা উসুল একটি ম্যাচ। প্রথমার্ধের গতিহীন ফুটবলে প্রাণ ফিরল দ্বিতীয়ার্ধে। চমক দেখাল কেপ ভার্দে। বর্তমান চ্যাম্পিয়নদের রুখে দিয়ে ম্যাচ নিয়ে গেল অতিরিক্ত সময়ে। সেখানেও জমিয়ে তুলল ম্যাচ। পিছিয়ে পড়েও ম্যাচে দু’বার সমতা ফেরাল কেপ ভার্দে। তবুও শেষটা রঙিন হলো না তাদের। বিদায় নিতে হলো নবাগত কেপ ভার্দেকে। কষ্টার্জিত জয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিল আর্জেন্টিনা।

আজ শনিবার (৪ জুলাই) বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টায় যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামে শেষ ৩২- এর ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল আর্জেন্টিনা আর কেপ ভার্দে। রোমাঞ্চকর লড়াই শেষে কেপ ভার্দেকে ৩-২ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখলের লড়াইয়ে এগিয়ে থাকে আর্জেন্টিনা। মাঝে মধ্যে কেপ বার্দের রক্ষণে হানা দিলেও বেশিরভাগ সময় কাটে মাঝমাঠেই। বিপরীতে, কেপ ভার্দে সুযোগ পেলেই প্রতিআক্রমণে ওঠার চেষ্টা করে।

এর মাঝেই ম্যাচের ২৯তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। মাঝমাঠ থেকে দ্রুত পাসিং মুভে বল নিয়ে এগিয়ে আসে বক্সের সামনে। সেখান থেকে বল পেয়ে বাম পায়ের নিয়ন্ত্রিত শটে গোলরক্ষকে পরাস্ত করেন লিওনেল মেসি। গোলকিপারের ডান পাশ ঘেঁষে জালে জড়িয়ে যায়।

গোলের পরও একই ধারায় চলতে থাকে ম্যাচ। বল দখলে রেখে ডান দিক দিয়ে একাধিক ক্রস এবং বক্সের বাইরে থেকে শট নেয় আলবিসেলেস্তেরা। তবে প্রধমার্ধে গোলের দেখা আর পায়নি কোনো দলই। ফলে ১-০ গোলে এগিয়ে থেকেই বিরতিতে যায় আর্জেন্টিনা।

বিরতি থেকে ফিরেও বদলায়নি ম্যাচের চিত্র। ম্যাচের ৫২তম মিনিটে আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। ডি-বক্সের মধ্যে লং বল বাড়িয়েছিলেন মেসি। পাশে থাকা ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে বেড়িয়ে যেতে পারলেও বল রিসিভ করতে পারেননি অ্যালেক্সিস ম্যাক-অ্যালিস্টার।

পরের মিনিটে আক্রমণে ওঠেছিল কেপ ভার্দেও। ডি-বক্সের ডানদিক থেকে কাট ব্যাক করা বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দূরপাল্লার শটে চেষ্টা করেছিলেন ডেরয় দুয়ার্তে। সেটি ঝাপিয়ে পড়ে আটকে দেন মার্টিনেজ।

ম্যাচের ৫৮তম মিনিটে আর্জেন্টিনাকে চমকে দিয়ে সমতা ফেরায় কেপ ভার্দে। বক্সের ডানপ্রান্ত দিয়ে বল দেওয়া-নেওয়া করতে করতে বক্সের মধ্যে ঢুকে পড়ে কেপ ভার্দের রায়ান মেন্ডিস আর ডেরয় দুয়ার্তে। ডিফেন্স চেরা পাসে দুয়ার্তেকে খুঁজে নেন রায়ান। দারুণ ফিনিশিংয়ে মার্টিনেজকে পরাস্ত করে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি.

ম্যাচের ৭১তম মিনিটে আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। সেটি আটকাতে বক্সের বাইরে ফাউল করে কেপ ভার্দের ফুটবলার। বিপজ্জনক জায়গায় ফ্রি-কিক পায় আর্জেন্টিনা। সেখান থেকে বাঁকানো শটে গোলের খোঁজে ছিলেন মেসি। কিন্তু দারুণ দক্ষতায় সেটি আটকে দেন গোলরক্ষক ভোজিনহা।

৮০তম মিনিটে আরও একবার আর্জেন্টিনাকে হতাশ করে কেপ ভার্দে। দারুণ একটি আক্রমণ সাজিয়েছিল লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা। কিন্তু দারুণ ডিফেন্সে ম্যাচে ব্যবধান বাড়তে দেয়নি বিশ্বকাপের নবাগত দলটি।

যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে ডি-বক্সের বাইরে গতিময় বাঁকানো শট নিয়েছিলেন লিয়ান্দ্রো পারেদেস। তবে ভোজিনহার দক্ষতার কাছে পারেদেসের এই শটও পরাস্ত হয়। বল গ্লাভসবন্দি করেন ভোজিনহা।

যোগ করা সময়ের চতুর্থ মিনিটে আবারও প্রিয় জায়গায় ফ্রি-কিক পেয়েছিলেন মেসি। এবার সবাইকে বোকা বানাতে উচু বাকানো শট নয়, নিচু শট নিয়েছিলেন তিনি। এই শটও আটকে দেন গোলরক্ষক। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় আবারও হেড নিয়েছিলেন আর্জেন্টিনার ফরোয়ার্ড। তবে সহজেই সেটি গ্লাভসবিন্দি করেন ভোজিনহা।

নির্ধারিত সময়ে খেলা ১-১ গোলের সমতায় থাকায় ম্যাচের ফলাফল নির্ধারণের জন্য যেতে হয় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে আক্রমণে ওঠে আর্জেন্টিনা। ম্যাক অ্যালিস্টারের পাস ধরে বক্সের মধ্যে ঢুকে দারুণ ফিনিশিংয়ে ভোজিনহাকে পরাস্ত করেন লিসান্দ্রো মার্টিনেজ। ২-১ গোলের লিড পায় আর্জেন্টিনা।

তবে আর্জেন্টিনার উল্লাস বেশি সময় স্থায়ী হতে দেয়নি কেপ ভার্দে। ম্যাচের ১০৩তম মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে তারা। ডি-বক্সের একটু বাইরে থেকে বাকানো শটে দূরের পোস্ট দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দেন কাবরাল। এমিলিয়ানো মার্টিনেজ ঝাপিয়ে পড়লেও বলের নাগাল পাননি তিনি। পুরো ম্যাচের মধ্যে সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন শট বলা যায় এটিকে।

এরপর দুই দলই আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ জমিয়ে তুলে। ম্যাচের ১১০তম মিনিটে কর্নারের বিনিময়ে আর্জেন্টিনার একটি আক্রমণ থামায় কেপ ভার্দে। ডানপ্রান্ত থেকে মেসির নেওয়া কর্ণার গিয়ে পড়ে ছয়গজ বক্সের মধ্যে। সেটি ক্লিয়ার করতে গিয়ে হেডে নিজেদের জালেই বল জড়িয়ে দেন দিনেই বোর্জেস। এতে আবারও ৩-২ গোলের লিড পায় আর্জেন্টিনা।

ম্যাচের বাকি সময়েও সমানতালে চলে আক্রমণ-প্রতিআক্রমণ। দুই দলই গোলের সুযোগ তৈরি করেছে। তবে, গোলরক্ষদের পরাস্ত করতে পারেনি। রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই উল্লাসে মেতে ওঠে আর্জেন্টিনা। আর কান্নায় ভেঙে পড়ে কেপ ভার্দে।