
ইতিহাস তো এভাবেই গড়তে হয়। হারার আগেই হেরে গেলে তো আর ইতিহাস গড়া যায় না। কঙ্গো যেনো সেটিই করে দেখাল। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে শুরুটাই করেছিল অবিশ্বাস্যভাবে পর্তুগালকে রুখে দিয়ে। এরপর শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে পিছিয়ে পড়েও লড়াই চালিয়ে গেল তুমুল বেগে। ধরা দিলো সাফল্যও। এক গোলে পিছিয়ে পড়া দল প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে উজবেকিস্তানের জালে বল জড়াল তিনবার। এতেই ইতিহাস গড়ে প্রথমবার জায়গা করে নিল বিশ্বকাপের নকআউটে।
আজ রোববার (২৮ জুন) বাংলাদেশ সময় ভোর সাড়ে ৫টায় ‘কে’ গ্রুপের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল কঙ্গো আর উজবেকিস্তান। দারুণ লড়াই শেষে উজকিস্তানকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে কঙ্গো।
গ্রুপ পর্ব শেষে তিন ম্যাচে সমান একটি করে জয়, পরাজয় আর ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে ‘কে’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে কঙ্গো। সেরা আট ‘তৃতীয় স্থান’ দল হয়ে জায়গা করে নিয়েছে আফ্রিকার দেশটি।
এদিকে, গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচ শেষে দুই জয় আর এক ড্রয়ে ৭ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে থেকেই শেষ ৩২- এ পা রাখল কলম্বিয়া। আর এক জয় আর দুই ড্রয়ে গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে পরের রাউন্ডে গেল পর্তুগাল।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য কঙ্গোর জন্য মোটেও ভালো ছিল না। দশম মিনিটেই এলদর শোমুরোদভের গোলে এগিয়ে যায় উজবেকিস্তান। দ্রুত আক্রমণ থেকে পাওয়া সুযোগ দারুণভাবে কাজে লাগিয়ে দলকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন অভিজ্ঞ এই ফরোয়ার্ড।
গোল হজমের পর ম্যাচে ফিরতে মরিয়া হয়ে ওঠে কঙ্গো। প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ গড়লেও উজবেকিস্তানের রক্ষণ ভাঙতে পারেনি তারা। ফলে পিছিয়ে থেকেই বিরতিতে যেতে হয় আফ্রিকার দলটিকে।
দ্বিতীয়ার্ধে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে একের পর এক সুযোগ তৈরি করতে থাকে কঙ্গো। ৬৮তম মিনিটে পেনাল্টি থেকে সমতা ফেরান ইয়োয়ানে উইসা। সেই গোলের ধাক্কা সামলে ওঠার আগেই ৭৮তম মিনিটে ফিস্তন মায়েলের গোলে প্রথমবারের মতো এগিয়ে যায় কঙ্গো।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে কঙ্গোর জয় নিশ্চিত করেন উইসা। তার জোড়া গোলেই ৩-১ ব্যবধানে গুরুত্বপূর্ণ জয় তুলে নেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।