
ইকুয়েডরের জন্য এটি ছিল বাঁচা-মরার লড়াই। নকআউটের দৌড়ে টিকে থাকতে হলে জয়ের কোনো বিকল্প নেই তাদের। ম্যাচের শুরু থেকেই তাদের খেলায় সেই লক্ষ্যটা দেখা গেল স্পষ্ট। পিছিয়ে পড়লেও ম্যাচে ফিরেছে লড়াকু মনোভাব নিয়ে। জার্মানির রক্ষণে চাপ তৈরি করে তুলে নিয়েছে জয়ও। এই জয়ে বাঁচিয়ে রাখল নকআউটের স্বপ্ন।
আজ বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) বাংলাদেশ সময় রাত ২টায় নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে ‘ই’ গ্রুপের ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল জার্মানি আর ইকুয়েডর। দারুণ লড়াই শেষে জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়েছে ইকুয়েডর।
ম্যাচ হারলেও অবশ্য গ্রুপ সেরা হয়েই নকআউটে যাচ্ছে জার্মানি। গ্রুপ পর্বের তিন ম্যাচে ২ জয় আর এক হারে ৬ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলর শীর্ষে জার্মানি। সমান ম্যাচে সমান পয়েন্ট হলেও গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দ্বিতীয় স্থানে থেকে নকআউটে যাচ্ছে আইভরি কোস্ট।
অন্যদিকে, জার্মানিকে হারানো ইকুয়েডর তিন ম্যাচে সমান একটি করে জয়, পরাজয় আর ড্রয়ে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। সেরা আট ‘তৃতীয় স্থান’ দল হিসেবে নকআউটে নিজেদের জায়গা নিশ্চিত করেছে ইকুয়েডর। আর এক পয়েন্ট নিয়ে বিদায় নিল কুরাসাও।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য ইকুয়েডরের জন্য ছিল দুঃস্বপ্নের মতো। দ্বিতীয় মিনিটেই লেরয় সানের গোলে এগিয়ে যায় জার্মানি। লং থ্রো-ইন থেকে পাওয়া বল নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বক্সের মধ্যে ফ্লোরিয়ান ভির্টজকে পাস দেন আলেকসান্দার পাভলোভিচ। সামনে থাকা ডিফেন্ডারকে ফাঁকি দিয়ে ভির্টজ পাস দেন লিরয় সানেকে। দারুণ ফিনিশিংয়ে বল জালে জড়ান জানে। উদযাপনে মেতে ওঠে জার্মানরা।
মনে হচ্ছিল, রক্ষণাত্মক ইকুয়েডর হয়তো খেই হারিয়ে ফেলবে। কিন্তু হাল ছাড়েনি সেবাস্তিয়ান বেকাসেসের শিষ্যরা। তবে জার্মানদের উদযাপন বেশি সময় স্থায়ী হতে দেয়নি ইকুয়েডর। নবম মিনিটেই নিলসন আঙ্গুলোর দুর্দান্ত এক জোরালো শটে সমতায় ফেরে তারা।
ডানপ্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠে প্রান্ত বদলে করে বামপ্রান্তে ফাঁকায় থাকা নিলসন আঙ্গুলোকে পাস দেন পেদ্রো ভিতে। একটু সামনে এগিয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুই জার্মান ডিফেন্ডারের মাঝখান দিয়ে বাঁকানো শটে গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়্যারকে পরাস্ত তিনি।
এরপর দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে। প্রথমার্ধের বাকি সময়টা ছিল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণের সাক্ষী। জার্মান তারকা কাই হাভার্টজ ও ইকুয়েডরের এনার ভ্যালেন্সিয়া গোলের সুযোগ তৈরি করলেও গোলরক্ষকদের নৈপুণ্যে প্রথমার্ধ শেষ হয় ১-১ সমতায়।
দ্বিতীয়ার্ধের চিত্র ছিল আরও নাটকীয়। ম্যাচের ৭৬তম মিনিটে জার্মানির লেরয় সানে গোলরক্ষককে একা পেয়েও গোল করতে ব্যর্থ হন। ঠিক পরের মিনিটেই প্রতি-আক্রমণ থেকে ইকুয়েডর পায় ঐতিহাসিক জয়ের মুহূর্তটি। কেভিন রদ্রিগেজের বাড়ানো বল থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে লক্ষ্যভেদ করেন গঞ্জালো প্লাতা। ইকুয়েডরের গ্যালারিতে তখন বাঁধভাঙা উল্লাস।
শেষ পর্যন্ত ২-১ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ইকুয়েডর। বিশ্বকাপের ইতিহাসে এই প্রথম জার্মানিকে হারানোর স্বাদ পেল ইকুয়েডর। ২০ বছর পর তাদের এমন প্রত্যাবর্তন।