News update
  • Political division undermining fight against ‘economic security emergency’     |     
  • Unilateral sanctions expand amid eroding multilateralism     |     
  • Padma Barrage work to open next Jan-Mar: Water Minister     |     
  • BSF's attempt to push-in 12 through Satkhira border foiled     |     
  • Govt Reviewing 101 MoUs, Agreements Signed With India     |     

বয়স্ক সেবার নামে কোটি ডলার জালিয়াতি, যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি নারীর ৭৬ মাসের কারাদণ্ড

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক প্রবাস 2026-09-12, 7:58am

jakia_khan_thum-05d4de9054b2df61060963a33886198f1789178318.jpg




যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের ব্রুকলিনে দুটি সামাজিক বয়স্ক ডে কেয়ার সেন্টার ও একটি হোম হেলথ কেয়ার প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি ডলারের মেডিকেইড জালিয়াতি (স্বাস্থ্যসেবা খাতের অনিয়ম ও দুর্নীতি) এবং ঘুষ ও অবৈধ আর্থিক লেনদেনে নেতৃত্ব দেওয়ার অপরাধে জাকিয়া খান নামের এক বাংলাদেশি নারীকে ৭৬ মাসের (ছয় বছর চার মাস) কারাদণ্ড দিয়েছেন মার্কিন আদালত।

স্থানীয় সময় ৯ সেপ্টেম্বর মার্কিন বিচার বিভাগের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে (জাস্টিস ডট গভ) প্রকাশিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্ট্রিক্ট জাজ নাতাশা সি. মার্লে এই রায় ঘোষণা করেন। এর আগে ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে জাকিয়া খান স্বাস্থ্যসেবা জালিয়াতির ষড়যন্ত্র এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে প্রতারণা ও ঘুষ প্রদানের ষড়যন্ত্রের কথা আদালতে স্বীকার করেছিলেন। শাস্তির অংশ হিসেবে আদালত তাকে ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে পরিশোধ এবং জালিয়াতির মাধ্যমে অর্জিত ৫০ লাখ ডলার মূল্যের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন, যার মধ্যে তল্লাশির সময় জব্দ করা দুটি সম্পত্তি, নগদ অর্থ ও স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে।

নিউ ইয়র্কের ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্টের ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়রসহ মার্কিন বিচার বিভাগের বেশ কয়েকজন উল্লেখযোগ্য কৌঁসুলি যৌথভাবে এই রায় ঘোষণার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এ প্রসঙ্গে ইউএস অ্যাটর্নি জোসেফ নোসেলা জুনিয়র বলেন, এই রায় জালিয়াতি রোধে কঠোর বার্তা দেবে এবং মার্কিন করদাতাদের অর্থ রক্ষায় দুর্নীতিগ্রস্ত স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের মালিকদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।

আদালতের নথি অনুযায়ী, জাকিয়া খান ব্রুকলিনের কনি আইল্যান্ড এলাকায় ‘হ্যাপি ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইনকর্পোরেটেড’ এবং ‘ফ্যামিলি সোশ্যাল অ্যাডাল্ট ডে কেয়ার সেন্টার ইনকর্পোরেটেড’ নামের দুটি সামাজিক বয়স্ক ডে কেয়ার সেন্টারের মালিক ছিলেন। এছাড়াও ‘রেসপনসিবল কেয়ার স্টাফিং ইনকর্পোরেটেড’ নামের একটি হোম হেলথ কেয়ার সংস্থা এবং জালিয়াতির অর্থ গ্রহণ ও তা গোপন করার কাজে ব্যবহৃত ‘তানভী সার্ভিসেস ইনকর্পোরেটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের মালিক ছিলেন তিনি।

২০১৭ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৪ সালের জুলাই পর্যন্ত একদল বিপণনকারীর (মার্কেটার) মাধ্যমে ঘুষ ও কমিশনার বিনিময়ে মেডিকেইড সুবিধাপ্রাপ্ত গ্রহীতাদের জাকিয়া খানের ডে কেয়ার সেন্টারে তালিকাভুক্ত করা হতো। এরপর সেই গ্রহীতাদের নগদ অর্থ ও ঘুষ দিয়ে সেবা নেওয়ার জন্য সাইন আপ করানো হতো, অথচ পরবর্তীতে মেডিকেইডের কাছে যে সেবার বিল জমা দেওয়া হতো তা বাস্তবে কখনোই প্রদান করা হয়নি। ২০১৭ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে তার দুটি ডে কেয়ার সেন্টার জালিয়াতির মাধ্যমে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ ডলারের ভুয়া বিল জমা দেয়, যার বিপরীতে মেডিকেইড কর্তৃপক্ষ প্রায় ৫ কোটি ৬০ লাখ ডলার প্রদান করে। জাকিয়া খান ও তার সঙ্গে থাকা ষড়যন্ত্রকারীরা একাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এই অর্থ পাচার করেন এবং পরবর্তীতে তা বিপণনকারী ও গ্রহীতাদের ঘুষ দেওয়ার কাজে ব্যবহার করেন।

পুরো মামলাটি যৌথভাবে তদন্ত করেছে এইচএইচএস-ওআইজি, এইচএসআই নিউ ইয়র্ক এবং নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ ডিপার্টমেন্ট (এনওয়াইপিডি)। সরকারের পক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশনের হেলথ কেয়ার ফ্রড সেকশনের ডেপুটি চিফ প্যাট্রিক জে. ক্যাম্পবেল এবং ট্রায়াল অ্যাটর্নি লিওনিড স্যান্ডলার, যেখানে বাজেয়াপ্তকরণ প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন ইস্টার্ন ডিস্ট্রিক্ট অব নিউ ইয়র্কের অ্যাসিস্ট্যান্ট ইউএস অ্যাটর্নি ক্লেয়ার কেডেশিয়ান।

গত ৭ এপ্রিল মার্কিন বিচার বিভাগ মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে জালিয়াতি রোধে ‘ন্যাশনাল ফ্রড এনফোর্সমেন্ট ডিভিশন’ গঠন করে। বিচার বিভাগের এই পদক্ষেপটি ফেডারেল সুবিধা কর্মসূচির জালিয়াতি, অপচয় ও অপব্যবহার দূর করতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশনায় এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্সের অংশ হিসেবে বাস্তবায়িত হচ্ছে।