
নেপালের জাতীয় নির্বাচনকে ঘিরে জমজমাট হয়ে উঠেছে নির্বাচনী প্রচার। কাঠমান্ডুর মেয়রের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থীর তালিকায় নাম লিখিয়েছেন বালেন্দ্র শাহ। দেশটির সবচেয়ে পুরনো রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেসেও নতুন সভাপতি নির্বাচিত করা হয়েছে। আন্দোলন-পরবর্তী নেপালের দায়িত্ব নিতে লড়াইয়ে নেমেছেন অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও।
নেপালের ঝাপা জেলার ৫ নম্বর সংসদীয় আসনে ৩০ বছর ধরে প্রতিটি নির্বাচনে জয়ের রেকর্ড গড়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি। এবার তার শক্ত ঘাঁটিতে ঢুকে জয় ছিনিয়ে আনার পরিকল্পনা করছেন তরুণ নেতা বালেন্দ্র শাহ।
রাষ্ট্রীয় স্বাধীন পার্টির পক্ষ থেকে নির্বাচনে অংশ নিতে গেল রোববার কাঠমান্ডুর মেয়রের পদ থেকে পদত্যাগ করেন তরুণ প্রজন্মের আইডল খ্যাত র্যাপার বালেন্দ্র। এরমধ্যেই শুরু করেছেন নির্বাচনী প্রচারও। তার ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবার বাজিমাত করতে পারে বলে ধারণা অনেক বিশ্লেষকের।
নির্বাচনের মাঠে উত্তাপ ছড়াচ্ছে দেশটির সবচেয়ে পুরনো ও বৃহত্তম রাজনৈতিক দল নেপালি কংগ্রেস পার্টির ভাঙনের খবর। দলটির বিদ্রোহী একটি অংশ জেন জি-দের প্রতিনিধিত্বকারী ৪৯ বছর বয়সি গগন থাপাকে তাদের নতুন সভাপতি নির্বাচিত করেছে।
রোববার সর্বোচ্চ আদালতে গগন থাপার কার্যনির্বাহী কমিটিকে নির্বাচন কমিশন বৈধতা দেয়ায় এটিকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে রিট করেন নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও দলের বিদায়ী প্রধান শেরবাহাদুর দেউবা। তার দাবি, সিদ্ধান্তটি পক্ষপাতদুষ্ট ও আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
এবারের নির্বাচনে হেভিওয়েট প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন নেপাল পার্টির চেয়ারম্যান কুলমান ঘিসিং ও ধরন সাব মেট্রোপলিটন সিটির মেয়র হরকা সাম্পাঙ্গা। নেপালের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর কাছে জনপ্রিয় কুলমান ঘিসিং।
নির্বাচনে অংশ নিতে সুশিলা কার্কির অন্তর্বর্তী সরকারের জ্বালানি, পানিসম্পদ ও সেচ মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি পদত্যাগ করেন ঘিসিং ও যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী বাবলু গুপ্তা।
নেপালের রাজনীতিতে এই নাটকীয় পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট তৈরি হয় গত সেপ্টেম্বর মাসে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষিদ্ধ করার প্রতিবাদে শুরু হওয়া ‘জেন জি’র বিক্ষোভ দ্রুতই দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে রূপ নেয়। সেই আন্দোলনে অন্তত ৭৭ জন প্রাণ হারান। শেষ পর্যন্ত ক্ষমতাচ্যুত হন কেপি শর্মা ওলি।
সেই বিক্ষোভের অন্যতম নেতৃত্ব ছিলেন বালেন্দ্র শাহ। বর্তমানে তার দলের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও ওই আন্দোলনের অনেক নতুন মুখ স্থান পেয়েছেন। আগামী ৫ মার্চ হতে যাওয়া এবারের নির্বাচনে তাই প্রবীণ বনাম তরুণদের মাঝে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।