News update
  • Bangladesh on The Verge of a Solar Energy Revolution     |     
  • Bangladesh Bank Injects $100 Million Into Forex Market     |     
  • Iran Says Bangladesh Ships Must Follow Hormuz Directives     |     
  • Bangladesh Draft Law Seeks Court Approval Before Arresting Journalists     |     
  • ECNEC Approves 13 Projects, Defers Decisions on Four     |     

মধ্যবর্তী নির্বাচন : ফলাফল মেনে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিশ্রুতি নেই সন্দেহপ্রবণ ট্রাম্পের

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক গনতন্ত্র 2026-11-03, 9:49pm

donaldtrump-66cdfff29584225ac6d1fc8db6f6c01d1793720955.jpg




যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রাক্কালে ট্রাম্প প্রশাসন অঙ্গরাজ্য থেকে পরিচালিত নির্বাচনগুলোর ওপর ফেডারেল নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর বেশ কিছু প্রচেষ্টা চালিয়েছে। এসব প্রচেষ্টা এবং অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ নির্বাচন ঘিরে আইনি লড়াই শুরু হয়েছে, যা ভোট গণনা এবং ফলাফল প্রত্যয়নের পর্যায় পর্যন্ত গড়াতে পারে। খবর আল জাজিরার।

এর আগেও যেমনটা করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই ট্রাম্প এবারও নির্বাচন কতটা বৈধ হবে—তা নিয়ে নিজের সংশয় আরও জোরালো করেছেন।

নির্বাচনের এক সপ্তাহ আগে, তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল—তার রিপাবলিকান পার্টি যদি মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তবে তিনি নির্বাচনের ফলাফল মেনে নেবেন কি না। এর উত্তরে তিনি শর্ত ঝুলিয়ে বলেন, ‘যদি নির্বাচন সুষ্ঠু হয়, তবে আমি তা মেনে নেব।’

গত মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘নির্বাচন যদি সততার সঙ্গে হয়, তবে আমি ফলাফল মেনে নেব।’ তাকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, রিপাবলিকান পার্টি যদি মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে, তবুও তিনি ফলাফল মেনে নেবেন কি না।

ইতোমধ্যে ট্রাম্পের বিচার বিভাগ (ডিওজে) ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যকে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিয়েছে। বিচার বিভাগের দাবি, ওয়াশিংটনের ভোটার তালিকায় প্রায় ৪০০ জন রয়েছেন, যারা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক নন। তাদেরকে তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

গত মাসে ওয়াশিংটন অঙ্গরাজ্যের প্রশাসন একটি মামলায় সফলভাবে যুক্তি দিয়েছে, তাদের সম্পূর্ণ ভোটার তালিকা বিচার বিভাগের কাছে হস্তান্তর করতে তারা বাধ্য নয়। ট্রাম্প প্রশাসন ডেমোক্র্যাট-শাসিত আরও অনেক অঙ্গরাজ্যের কাছে একই দাবি জানিয়েছিল, তবে আদালত এ বিষয়ে অঙ্গরাজ্যগুলোর পক্ষেই রায় দিয়েছে।

আদালতে বারবার ব্যর্থ হওয়া সত্ত্বেও ট্রাম্পের বিচার বিভাগ ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের ফলাফলের ওপর সন্দেহ সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে, ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোতে বিপুল সংখ্যক নাগরিক না এমন ব্যক্তি ভোট দিচ্ছেন বলে তারা দাবি করছে। এ দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ভোটাধিকার বিষয়ক সংস্থাগুলো বারবার নাকচ করে দিয়েছে।

গত সপ্তাহে, মার্কিন বিচার বিভাগ আলাস্কা অঙ্গরাজ্যের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেছে। এতে বলা হয়েছে, যদি বর্তমান রিপাবলিকান সিনেটর ড্যান সুলিভান নির্বাচনে জয়ী না হন, তবে বিচার বিভাগ আলাস্কার সিনেট নির্বাচনের ফলাফল প্রত্যয়ন প্রক্রিয়া আটকে দেওয়ার চেষ্টা করবে।

মার্কিন কংগ্রেসের সিনেটের এবারের নির্বাচনের ফলাফল ডেমোক্রেটিক পার্টির পক্ষে যেতে পারে। এমনটি ঘটলে আইন প্রণয়নকারী এই উচ্চকক্ষে ট্রাম্পের রিপাবলিকান দলের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে। গত শুক্রবার ট্রাম্প জানান, আলাস্কার বিরুদ্ধে এই মামলাটি দায়ের করার জন্য তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিচার বিভাগকে নির্দেশ দিয়েছিলেন।

চলতি মাসের শুরুর দিকে ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্য জানায়, তারা বিচার বিভাগের কাছ থেকে একটি চিঠি পেয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, অঙ্গরাজ্যটিকে প্রায় ২০ হাজার ভোটারের একটি তালিকা পর্যালোচনা করতে হবে, যারা মার্কিন নাগরিক নন। ক্যালিফোর্নিয়া কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, ওই তালিকায় থাকা ব্যক্তিদের একটি বড় অংশ আসলে যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন বলে মনে হচ্ছে; আর জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক হওয়ার কারণে তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই ভোটার হওয়ার যোগ্য।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলছে। যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বজুড়ে বহু মানুষ এ নির্বাচনের দিকে নজর রাখছেন। দেশটির স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকালে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হতে থাকবে তা নির্ধারিত হবে মধ্যবর্তী নির্বাচনে। তবে এবার কেবল রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ নয়, যুক্তরাষ্ট্রের ভোটারদের ব্যালট পেপারে প্রভাব ফেলছে জীবনযাত্রার বাস্তব সমীকরণ। মুদ্রাস্ফীতি ও কর্মসংস্থান, অভিবাসন, কর হ্রাস, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ এবং ইসরায়েল-ফিলিস্তিনসহ নানামুখী জটিল ইস্যুগুলো বিবেচনায় রাখছেন সাধারণ ভোটাররা।

এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ডেমোক্র্যাটিক দলের মিশিগান অঙ্গরাজ্যের সিনেটর পদপ্রার্থী আব্দুল এল-সায়েদের বিরুদ্ধে আক্রমণ অব্যাহত রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে ইহুদি, কৃষ্ণাঙ্গ ও শ্বেতাঙ্গদের ঘৃণা করার অভিযোগ তুলেছেন ট্রাম্প।

ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ প্ল্যাটফর্মে এক পোস্টে লেখেন, ‘আব্দুল এল-সায়েদ ইহুদি ও কৃষ্ণাঙ্গদের ঘৃণা করে। খারাপ ভাববেন না, সে শ্বেতাঙ্গদেরও ঘৃণা করে।’

ট্রাম্প বলেন, ‘কেবল বোকারাই’ এল-সায়েদকে ভোট দেবে। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এল-সায়েদ আপনাদের শতভাগ সর্বনাশ করে দেবে!

মিশিগানে এল-সায়েদ ও রিপাবলিকান মাইক রজার্সের মধ্যে ভোটযুদ্ধ সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার দৌড়ে নির্ণায়ক হতে পারে। জরিপ অনুযায়ী, এল-সায়েদ রজার্সের চেয়ে এগিয়ে আছেন।

এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রায় ২১ কোটি নিবন্ধিত ভোটারের মধ্যে প্রায় ৫ কোটি ৮৭ লাখ ভোটার আগাম ভোট দিয়েছেন। ফ্লোরিডা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক বিশ্লেষণী প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে এ তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।

৫ কোটি ৮৭ লাখ আগাম ভোটের মধ্যে রয়েছে ৩ কোটি ১৯ লাখ সরাসরি ভোট এবং ২ কোটি ৬৮ লাখ ডাকযোগে পাঠানো ব্যালট। ২০২২ সালে আগাম ভোট দেওয়া হয়েছিল ৪ কোটি ৬০ লাখ।

যেসব অঙ্গরাজ্যে দলীয় সমর্থকের হিসাব রাখা হয়, সেখানে আগাম ভোটদাতাদের মধ্যে ১ কোটি ২৫ লাখ ছিলেন নিবন্ধিত ডেমোক্র্যাট এবং নিবন্ধিত রিপাবলিকানের সংখ্যা প্রায় ৯০ লাখ।

যুক্তরাষ্ট্রের ৫০টি অঙ্গরাজ্যেই ডাকযোগে ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে, পাশাপাশি অধিকাংশ অঙ্গরাজ্যেই আগেভাগে সশরীরে ভোট দেওয়ারও ব্যবস্থা রয়েছে।

ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্যগুলোতে ভোটকেন্দ্রগুলো খুলে দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ৬টায় (বাংলাদেশ সময় সকাল ৭টায়) নিউইয়র্ক, কানেকটিকাট, নিউ জার্সি, ভার্জিনিয়া এবং ইন্ডিয়ানা ও কেনটাকির কিছু অংশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছে। দেশটির অন্যান্য এলাকায় ভিন্ন ভিন্ন সময়ে ভোটগ্রহণ শুরুর কথা রয়েছে।

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদের ৪৩৫ আসনের সবকটি এবং সিনেটের ১০০ আসনের মধ্যে ৩৫টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এবারের নির্বাচনে বিরোধী দল ডেমোক্র্যাটরা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির কাছ থেকে উভয় কক্ষের নিয়ন্ত্রণ কেড়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে আশা করছে।