
বিগত সরকারের ১৬ বছরের ধ্বংসযজ্ঞের শিকার হওয়া বাংলাদেশে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি ফিরে আসেন, তবে তা কেবল তার ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্যই হবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম।
তিনি বলেন, ‘আজকে একটা সাক্ষাৎকার আমরা দেখেছি, যেখানে ডিসেম্বরে কেউ একজন দেশে ফেরার পরিকল্পনা করেছেন। আমরাও চাই সে দেশে ফিরবে, তবে তা ফাঁসির রায় কার্যকর হওয়ার জন্য।’
শুক্রবার (১০ জুলাই) রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইইডিবি) মিলনায়তনে এসএমই ফাউন্ডেশন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, গণহত্যাকারীদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে এরইমধ্যে আইনি রায় হয়ে গিয়েছে। এখন সরকারের দায়িত্ব হলো যথাযথ কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে সেই রায় কার্যকর করা।
অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ বলেন, শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে আসবেন, কাদের নিয়ে আসবেন কিংবা আত্মসমর্পণ করবেন কি না–তা নির্ধারণ করার দায়িত্ব সম্পূর্ণ বাংলাদেশ সরকারের। সরকারকেই এ বিষয়ে দিল্লির সঙ্গে সরাসরি কথা বলতে হবে। এখানে অন্য কোনো পক্ষের সুযোগ নেই। সুতরাং, সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেই তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা উচিত।
শেখ হাসিনার রাজনৈতিক অবস্থানের সমালোচনা করে এনসিপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনার সিদ্ধান্ত এখন আর তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত নয়। দিল্লি থেকে তাকে যতটুকু অনুমতি দেয়া হয়, তিনি সে অনুযায়ী কথা বলেন। ফলে তার ফেরা বা বিচার হওয়া মূলত ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক বোঝাপড়ার ওপর নির্ভর করছে। শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগ তো এখন কোনো রাজনৈতিক দলই নয়।’
জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে সরকারকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীরা দেশের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও অর্থনীতিকে রক্ষা করতে যে কোনো রাজনৈতিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে। তবে শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে কেন্দ্র করে যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার কোনো পাঁয়তারা হয় এবং সরকার যদি তা প্রশ্রয় দেয়, তবে সবচেয়ে বেশি ক্ষতির সম্মুখীন সরকার নিজেই হবে।’
নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের আপামর জনগণ, জুলাই বিপ্লবের সব পক্ষ, ৩০ হাজার আহত ও ১ হাজার ৪০০ শহীদ পরিবারের সদস্যরা যে কোনো চক্রান্ত নস্যাৎ করতে মাঠে প্রস্তুত আছেন।’