
নানা শঙ্কা আর অনিয়মের কালো মেঘ জমেছিল চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ নিয়ে। সেই কালো মেঘ দূর হয়ে গেছে। অবশেষে মাঠে গড়াতে যাচ্ছে দুই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত-পাকিস্তানের লড়াই। আগামীকাল রোববার (১৫ ফেব্রুয়ারি) শ্রীলঙ্কার প্রেমাদাসা স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় মাঠে নামবে দুই দল।
বিশ্বকাপের অন্যতম হাইভোল্টেজ ম্যাচ ভারত-পাকিস্তানের মধ্যকার ম্যাচ। এই দুই দেশের দ্বৈরথ দেখতে মুখিয়ে থাকেন কোটি ক্রিকেটপ্রেমীরা। যদিও দুই দেশের লড়াই দেখা হয় কালেভদ্রে—বৈশ্বিক কোনো টুর্নামেন্টে। কারণ, রাজনৈতিক বৈরিতার জন্য দীর্ঘদিন ধরেই কোনো দ্বিপাক্ষিক সিরিজ খেলা হয় না ভারত-পাকিস্তানের।
বিশ্বকাপের এবারের ম্যাচ খেলা নিয়েও তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। আইসিসি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারত ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল পাকিস্তান। পরবর্তীতে অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি), পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আইসিসির ত্রিপাক্ষিক বৈঠক শেষে সিদ্ধান্ত পূণর্বিবেচনা করে পাকিস্তান। সিদ্ধান্ত নেয় ম্যাচ খেলার।
২০ দলকে নিয়ে নতুন আঙ্গিকে হওয়া এবারের বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান আছে ‘এ’ গ্রুপে। দুই দলই ইতোমধ্যে দুইটি করে ম্যাচ খেলেছে। দুইটিতেই জয় পেয়েছে তারা। তবে রানরেটে এগিয়ে থাকায় পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে আছে ভারত। পাকিস্তান আছে দুই নম্বরে।
তবে নানা জল্পনা-কল্পনার এই ম্যাচে ফেবারিট হয়েই মাঠে নামছে ভারত। অন্তত পরিসংখ্যান তাদের এগিয়ে রাখছে। দুই দলের সর্বশেষ পাঁচ দেখায় সবগুলোতেই হেরেছে পাকিস্তান। গত বছর এশিয়া কাপে তিনবারের দেখায় হেরেছে সবগুলোতে। ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে শিরোপা হারিয়েছে পাকিস্তান।
পরিসংখ্যান বলছেন, এখন পর্যন্ত টি-টোয়েন্টিতে মোট ১৭ বারের দেখায় ভারত জিতেছে ১৩ বার। বিপরীতে পাকিস্তানের জয় মাত্র তিনবার। একটি ম্যাচ টাই হয়েছে। পুরোনো রেকর্ড ভেঙ্গে তাই এ ম্যাচে ফেরার কঠিন চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে পাকিস্তানের জন্য।
তবে এ ম্যাচে ভারত-পাকিস্তানের বাইরে তৃতীয় পক্ষও উপস্থিত থাকবে। কলম্বোর আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, দিনভর আবহাওয়া বেশ গরম ও আর্দ্র থাকতে পারে। তাপমাত্রা ৩১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের আশেপাশে থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বিকেল থেকে আবহাওয়ার পরিবর্তন শুরু হতে পারে। বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা প্রায় ৫০ থেকে ৭০ শতাংশ।
সূচি অনুযায়ী, খেলা শুরু হওয়ার কথা স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায়। কিন্তু ঠিক ওই সময়েই বৃষ্টির মাত্রা বেশি থাকতে পারে। তবে রাত ৮টার পর পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বৃষ্টির কারণে খেলা শুরু হতে দেরি হলে ম্যাচের ওভার কমিয়ে আনা হতে পারে।