
প্লে-অফের জন্য স্যাম বিলিংস ও ক্রিস ওকসের মতো তারকাদের উড়িয়ে এনেও ফাইনাল খেলা হচ্ছে না সিলেট টাইটান্সের। এলিমিনেটর ম্যাচে রংপুর রাইডার্সকে বিদায় করা দলটির বিপিএল যাত্রা থামলো দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে।
মিরপুরে বুধবার (২১ জানুয়ারি) ফাইনাল নিশ্চিতের ম্যাচে রাজশাহী ওয়ারিয়র্সের কাছে ১২ রানের ব্যবধানে হেরেছে সিলেট। তাতে শিরোপার মঞ্চে চট্টগ্রাম রয়্যালসের সঙ্গী হলো শান্তর দল। এদিন ১৬৬ রানের লক্ষ্যে ব্যাট করতে নেমে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১৫৩ রানে থামে সিলেট। তাদের জয় রুখে দেওয়ার পথে রাজশাহীর হয়ে নায়কের ভূমিকায় ছিলেন লঙ্কান পেসার বিনুরা ফার্নান্দো। মাত্র ১৯ রান খরচায় ৪ উইকেট নেন তিনি।
এদিন রান তাড়ায় নেমে শুরুতে হোঁচট খেলেও মাঝে পারভেজ হোসেন ইমন ও স্যাম বিলিংয়ের ব্যাটে জয়ের আশা জেগেছিল সিলেট শিবিরে। শুরুতে মাত্র ৭ রান তুলতেই ২ উইকেট হারিয়েছিল তারা। রানের খাতা না খুলেই সাজঘরে ফেরেন জাকির হাসান ও আরিফুল ইসলাম। তৃতীয় উইকেটে স্যাম বিলিংসকে নিয়ে হাল ধরে শক্ত প্রতিরোধ গড়ে তোলেন পারভেজ ইমন। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দলকে ফেরান লড়াইয়ে।
দুজনের ৬৯ রানের দুর্দান্ত জুটি ভাঙে রান আউট নাম দুর্ভাগ্যে। ৩৪ বলে ৫ চার ও ২ ছক্কায় ৪৮ রান করে বিদায় নেন ইমন। এরপর ক্রিজে নেমে বিলিংসকে সঙ্গ দিতে পারেননি মঈন আলী। ৫ বলে ৭ রান করে বোল্ড হন তিনি। পরের ওভারে বিলিংসও আউট হলে ফের চাপে পড়ে সিলেট। ২৮ বলে ৩ চার ও ১ ছক্কায় ৩৭ রান করে ফেরেন এ ইংলিশ ব্যাটার। এরপর অবশ্য সিলেটকে আশা জাগিয়েছিলেন আফিফ হোসেন ধ্রুব। তবে ১২ বলে ২ চার ও ১ ছক্কায় ২১ রান করে তিনিও বিদায় নেন। হাল ধরতে ব্যর্থ হন অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজও। ১৩ বলে ৯ রান করে ১৮তম ওভারের প্রথম বলে বিদায় নেন তিনি। দলের জয়ের জন্য তখন দরকার ছিল ১৭ বলে ৩৪ রান। শেষদিকে ক্রিস ওকস , খালেদ আহমেদ ও নাসুম আহমেদরা অবশ্য কোনো চমক দেখাতে পারেননি। তাতে ১২ রানে হারে বিদায় নিতে হয় সিলেটকে।
আগের ম্যাচে শেষ বলে ছক্কা হাঁকিয়ে রংপুরকে বিদায় করা ওকস এদিন ১০ বলে ১৫ রানে অপরাজিত ছিলেন। রাজশাহীর হয়ে বিনুরা ছাড়া বল হাতে মিতব্যয়ী ছিলেন আব্দুল গাফফার সাকলাইন। ৪ ওভার বল করে ১৯ রান খরচায় ১ উইকেট নেন তিনি।
এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে দুই কিউই ব্যাটারের নৈপুণ্যে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ রান সংগ্রহ করে রাজশাহী। কেইন উইলিয়ামসন ৩৮ বলে ২ ছক্কা ও ১ চারের মারে ৪৫ রানে অপরাজিত থাকেন। ২৬ বলে ৪ চার ও ২ ছক্কায় ৪৪ রান করে আউট হন জেমস নিশাম। অবশ্য ওপেনিংয়ে এদিন শাহিবজাদা ফারহান ও তানজিদ হাসান তামিম যেভাবে শুরু করেছিলেন তাতে সংগ্রহটা আরও বড় হওয়ার কথা ছিল। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ১৫ বলে ৪ ছক্কা ও ১ চারের মারে ৩২ রান করেছিলেন তামিম। ২১ বলে ৪ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ রান করেছিলেন ফারহান।
মাত্র ২৩ রান খরচায় ৩ উইকেট নিয়ে বল হাতে সিলেটের সেরা পারফরমার সালমান ইরশাদ। এছাড়া ২০ রানের বিনিমিয়ে নাসুম আহমেদ ২ আর ২৩ রান দিয়ে ২ উইকেট নিয়েছেন মিরাজ।
প্রথম কোয়ালিফায়ারে চট্টগ্রামের বিপক্ষে হেরে বাঁচা-মরার পরিস্থিতিতে পড়া রাজশাহী পাচ্ছে প্রতিশোধের মোক্ষম সুযোগ। জানুয়ারি শিরোপার লড়াইয়ে একই প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হবে শান্তরা।