News update
  • Board of Peace quietly met with UNRWA, ex-agency chief says     |     
  • Man arrested with cocktail ingredients, 9,000 masks in Keraniganj     |     
  • Anthrax detected in 3 of 11 people tested in Rangpur     |     
  • Woman killed, 4 of her family missing in Meghna boat capsize     |     
  • State can never be strong keeping citizens powerless: PM at UNGA     |     

আমেরিকার মাটিতে ভারতের 'লাকি সেভেন' নাকি পাকিস্তানের 'টিকে থাকা'র লড়াই?

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক ক্রিকেট 2024-06-09, 2:03pm

ryeryrey-39cc6955bb12be5c3916515de79440b51717920187.jpg




নিউ ইয়র্কে ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচ, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই ম্যাচটি রোববার বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে আটটায় শুরু হবে।

ক্রীড়া দুনিয়ার সবচেয়ে বড় লড়াইগুলোর একটি এই প্রথম আয়োজিত হতে যাচ্ছে আমেরিকার মাটিতে, তাও আবার নিউ ইয়র্কে, যে শহর ঘুমায় না বলে কথিত আছে।

এই নিউ ইয়র্কে হুট করে বানিয়ে ফেলা এক স্টেডিয়ামের গ্যালারি রবিবার উপমহাদেশের সময় সন্ধ্যা রাতে ভরে উঠবে ভারত ও পাকিস্তানের সমর্থকে, তাদের অনেকে উপমহাদেশ থেকেই খেলা দেখতে চলে গিয়েছেন।

আবার অনেকে সেখানেই থাকেন, ঘর থেকে দূরে, তাদের ঘর এখন আমেরিকাই।

তবে ক্রিকেটের দুই পরাশক্তি যে উত্তর আমেরিকায় এই প্রথম ক্রিকেট খেলছে তা নয়, নব্বইয়ের দশকে টরন্টোতে এই দুই দল ওয়ানডে সিরিজ খেলেছিল।

১৯৯৬, ১৯৯৭, ১৯৯৮- তিন বছর এই ওয়ানডে সিরিজ আয়োজিত হয়েছিল কানাডার এই অভিজাত শহরে।

আমেরিকার মানুষের মধ্যে এটা কতটা আলোড়ন ফেলছে সেই প্রশ্ন যদিও থেকেই যায়, তবুও বোঝার সুবিধার্থে একটা তুলনা করা যেতে পারে।

আমেরিকার ন্যাশনাল ফুটবল (নামে ফুটবল, আদতে রাগবির মতো আমেরিকান একটা স্পোর্ট) লিগ- এনএফএলের সুপার বোলের সবচেয়ে উত্তেজনাকর ম্যাচের দর্শক ছিল ১২৫ মিলিয়ন, সাড়ে বারো কোটি মানুষ পৃথিবীব্যাপি দেখেছিল এই খেলা।

আর ভারত বনাম পাকিস্তান ম্যাচের প্রত্যাশিত দর্শক সংখ্যা ৪০০ মিলিয়ন, ৪০ কোটির মতো মানুষ। টেলিভিশন, মোবাইল ফোন, ট্যাব, কম্পিউটার কিংবা মাঠেই বা বড় কোনও স্ক্রিনে বুদ হয়ে থাকবে এই ম্যাচ দেখতে।

মুখোমুখি ভারত-পাকিস্তান

ভারত ও পাকিস্তান একে ওপরের বিপক্ষে মোট ১২টি টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছে, যেখানে ভারত ৮টিতে এবং পাকিস্তান ৩টিতে জয় পেয়েছে।

তার মধ্যে টি টোয়েন্টি বিশ্বকাপে যে সাতবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল, তার মধ্যে ছয়টিতে জিতেছে ভারত, একটিতে পাকিস্তান।

এটা হতে যাচ্ছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে আট নম্বর ম্যাচ।

দুই দলে ১২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচের ১১টিতেই খেলেছেন ভারতের বর্তমান অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

এই দুই দলের দেখায় সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ভিরাট কোহলি- ৪৮৮ রান।

সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত রানও কোহলির অপরাজিত ৮২। ২০২২ বিশ্বকাপের এই ইনিংসটি টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটেরই সেরা ইনিংসগুলোর একটি বলে মনে করা হয়।

সবচেয়ে বেশি, ১১ উইকেট নিয়েছেন তিন জন, ভারতের ভুবনেশ্বর কুমার ও হার্দিক পান্ডিয়া এবং পাকিস্তানের উমর গুল।

কেন ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে এমন উন্মাদনা

সহজ কথায় বলতে গেলে এই ম্যাচটা ফুটবলের ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা, স্প্যানিশ লিগের বার্সা-রেয়াল ম্যাচের মতোই, বলা যায় ক্রিকেটের এল-ক্লাসিকো।

কিন্তু গত এক যুগ বা তারও বেশি সময়ের রাজনৈতিক অস্থিরতা এই খেলার গুরুত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে বহুগুণে।

একে তো এই দুইদল দ্বিপাক্ষিক সিরিজে মুখোমুখি হয় না, এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের বৈঠকে দুই দেশের ক্রিকেট কর্তাদের নানা বিষয়ে মনোমালিন্য লেগেই থাকে, এর সাথে যোগ হয়েছে সমর্থকদের আগুনে ঘি দেয়া নানা কার্যক্রম।

যেমন ভারতে আয়োজিত ২০২৩ বিশ্বকাপে পাকিস্তানি ক্রিকেটাররা ভিসার জন্য অপেক্ষা করেছে সবচেয়ে বেশি সময়। পাকিস্তানি ক্রিকেটারদের শুধু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের চিঠিতেই হয় না, ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে আলাদা ক্লিয়ারেন্স লাগে।

ক্রিকেট সম্পর্কিত সোশ্যাল মিডিয়া পেজগুলোর কমেন্ট সেকশনে নানা বিষয়ে ঝগড়া লেগেই থাকে।

বিশ্বকাপের মঞ্চে আদতেদুই দলের পারফরম্যান্সে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ইতিহাসে যেমন ভারত জিতেছে ৬ ম্যাচে পাকিস্তান ১টি।

এর মধ্যেও বেশ কিছু ম্যাচ ইতিহাসের পাতায় এবং সমর্থকদের স্মৃতিতে বহুদিন টিকে থাকবে।

যেমন ২০০৭ বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে টাই হওয়ার পরে বল-আউট (অনেকটা পেনাল্টির মতো), ২০০৭ বিশ্বকাপের ফাইনালে মিসবাহ উল হকের বিখ্যাত স্কুপ, ২০২১ বিশ্বকাপে ভারতের ১০ উইকেটে হাড়, ২০২২ বিশ্বকাপে কোহলির অবিস্মরণীয় ইনিংসে ৮ বলে ২৮ রান তাড়া।

নিউ ইয়র্কের মাঠে বসতে পারবেন ৩৪ হাজার মানুষ। এর টিকিটের দাম দেড় হাজার ডলার থেকে দশ হাজার ডলার পর্যন্ত। ওখানে উপস্থিত অনেকে বলছেন কালোবাজারে এই টিকিটের দাম অবিশ্বাস্য, বাংলাদেশি মুদ্রায় ৩০-৪০ লাখ টাকা দিয়েও কিনছেন কেউ কেউ।

একটাই ভয়- উইকেটেই না খেলা মুষড়ে পড়ে

ভারত-পাকিস্তান ম্যাচ এমনিতেই জমে ওঠে, তার ওপর এবারে মোহাম্মদ আমির ফিরেছেন। আমির বনাম ভিরাট লড়াই দেখার জন্য অনেকেই অপেক্ষা করছেন।

দুইজনই ম্যাচ জেতাতে সক্ষম, সাথে আছেন শাহিন শাহ আফ্রিদি, রোহিত শর্মা, রিজওয়ান, সুরিয়া কুমার ইয়াদাভ।

ভারত-পাকিস্তানের গোটা স্কোয়াডই তারকায় ঠাসা।

কিন্তু উইকেট নিয়ে এখনও পর্যন্ত একটা অসন্তোষ দেখা যাচ্ছে।

অস্ট্রেলিয়ার এডেলেইড থেকে আনা মাটি দিয়ে তৈরি নিউ ইয়র্কের এই উইকেট কারো মন ভরাতে পারছে না। না ক্রিকেটারদের না দর্শকদের, না বিশ্লেষকদের।

ইংল্যান্ডের সাবেক অধিনায়ক মাইকেল ভন বলেছেন, এই রকম উইকেটে খেলাটা হতাশাজনক।

এখনও পর্যন্ত বিশ্বকাপের ৬ ইনিংস হয়েছে নাসাউ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে যেখানে মাত্র ২ বার ১০০ পার করেছে ইনিংসের রান।

শ্রীলঙ্কা অলআউট হয়েছিল ৭৭ রানে, সেই রান তাড়া করতে দক্ষিণ আফ্রিকার চার উইকেট চলে যায়।

মাত্র পাঁচ মাসে তৈরি করা এই ক্রিকেট স্টেডিয়াম দেখতে সুন্দর, সুযোগ সুবিধা আন্তর্জাতিক মানের কিন্তু আইসিসি বিপাকে পড়েছে উইকেটের মান নিয়ে।

আইসিসি একটি বিবৃতিতে বলছে, "উইকেটের মানে উন্নতি আনার চেষ্টা করছে কর্তৃপক্ষ।"

যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে পাকিস্তানের হারে ভারত এগিয়ে থাকবে?

আমেরিকার বিপক্ষে সুপার ওভারে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করা পাকিস্তান এখনই বাদ পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনুভব করছে।

বোলিং-ব্যাটিং দুই বিভাগেই আমেরিকার ক্রিকেটাররা পাকিস্তানকে পেছনে ফেলে দিয়েছিল। যাদের কেউ কেউ পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত, কেউ কেউ ভারতীয়, কিন্তু এখন তারা ক্রিকেট খেলছেন আমেরিকার জার্সি গায়ে।

আমেরিকা দুই ম্যাচ জিতে একটা আরামদায়ক পরিস্থিতিতে আছে, ওদিকে আয়ারল্যান্ডকে হারিয়ে দিয়েছে উত্তর আমেরিকার আরেক দল কানাডা।

সব মিলিয়ে ভারতের বিপক্ষে পাকিস্তান হেরে গেলে আরও কোণঠাসা হয়ে পড়বে।

আর ভারত আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সহজ জয় তুলে নিয়েছে।

পাকিস্তান এখনও পর্যন্ত দলের জন্য সেরা সমন্বয় কী হবে সেটা বুঝে উঠতে পারেনি। আজম খান, ইফতিখার আহমেদরা পারফর্ম করতে পারছেন না।

শাহিন শাহ শুরুটা ভালো করলেও পুরনো বলে খানিকটা ফিকে দেখাচ্ছেন।

তবে পাকিস্তানের জন্য এসব পরিস্থিতি একেবারেই চেনা, যেমন ২০২২ সালেও জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে হেরে টুর্নামেন্ট শুরু করেছিল পাকিস্তান, এরপর শেষ পর্যন্ত ফাইনালে খেলেছে দলটি।

এবারে দুশ্চিন্তা একটাই, প্রতিপক্ষ ভারত।

ভারতের মূল অস্ত্র ভিরাট কোহলি, তিনি প্রথম ম্যাচে বাউন্স বুঝে উঠতে পারেননি, অচেনা এই মাঠে ভিরাটকে চেনা যায়নি।

তবে ঋষভ পান্ত আছেন, তিনি এবারে তিন নম্বরে ব্যাট করবেন, কোহলি ইনিংস ওপেন করছেন রোহিতের সাথে।

হার্দিক-সুরিয়ারা আছেন মিডল অর্ডারে।

বোলিং-এ ভারত অনেকটাই নির্ভর করবে জসপ্রিত বুমরাহ'র ওপর। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের অন্যতম সেরা এই বোলার মুখিয়ে থাকবেন পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামতে। বিবিসি বাংলা