
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এএফপির ফাইল ছবি
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ঘোষণায় বিশ্বজুড়ে বইছে নিন্দার ঝড়। আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি বজায় রাখতে দেশটির পদক্ষেপের বিরুদ্ধে এবার সরাসরি অবস্থান নিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
স্থানীয় সময় সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি) হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পশ্চিম তীর স্থিতিশীল থাকলে ইসরায়েল বেশি নিরাপদ থাকবে। এই অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠাই বর্তমান মার্কিন প্রশাসনের লক্ষ্য। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের বরাতে এ খবর জানায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা।
সম্প্রতি ইসরায়েলের উগ্র ডানপন্থি অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণ বাড়ানোর ঘোষণা দেন। এই পদক্ষেপের ফলে ইসরায়েলিদের জন্য ফিলিস্তিনি জমিতে নতুন বসতি গড়া আরও সহজ হয়ে যাবে। যা আন্তর্জাতিক আইনে সম্পূর্ণ অবৈধ। ইসরায়েলের এই ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় ওঠে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হোয়াইট হাউস তাদের আপত্তির কথা জানাল।
এদিকে মিশর, সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কসহ আটটি মুসলিম প্রধান দেশ যৌথ বিবৃতিতে ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। দেশগুলোর মতে, ইসরায়েল অবৈধভাবে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর নিজেদের কর্তৃত্ব চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপের আসল উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনি জমিতে অবৈধ বসতি স্থাপন নিশ্চিত করা। সেখানে নিজেদের আইন কার্যকর করা। এর ফলে ফিলিস্তিনিদের নিজ ভূমি থেকে তাড়িয়ে দেওয়া আরও সহজ হবে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের পাশাপাশি যুক্তরাজ্য ও স্পেনও ইসরায়েলের এই সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মতে, ইসরায়েলের এই পদক্ষেপ ওই অঞ্চলের পরিস্থিতিকে আরও অশান্ত করে তুলছে। একই সঙ্গে ফিলিস্তিন ও ইসরায়েল এই দুই রাষ্ট্র গঠনের মাধ্যমে শান্তির পথ বন্ধ করে দিচ্ছে।
অন্যদিকে, যুক্তরাজ্য সরাসরি ইসরায়েলকে এই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ব্রিটিশ সরকার সাফ জানিয়েছেন, ফিলিস্তিনের মানচিত্র বা জনসংখ্যা পরিবর্তনের যেকোনো একতরফা চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের বিরোধী এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। তারা অবিলম্বে এই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে।