News update
  • Govt Cuts ADP to Tk2 Lakh Crore Amid Fiscal Pressure     |     
  • Home Adviser Urges Ansar Professionalism for Fair Polls     |     
  • Net FDI in BD jumps over 200 percent in Q3 of 2025: BIDA     |     
  • Quilt makers race against time as severe cold grips Lalmonirhat     |     
  • Dhaka's air quality turns ‘very unhealthy’ on Monday     |     

গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের মুহূর্তে’ ডেনমার্ক : প্রধানমন্ত্রী ফ্রেডরিকসেন

গ্রীণওয়াচ ডেস্ক কুটনীতি 2026-01-12, 11:24am

ert34532453-b28f1457917110f9bdc314e0774da34f1768195491.jpg

ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডেরিকসেন গত বছরের ২৮ অক্টোবর সুইডেনের স্টকহোমে নর্ডিক কাউন্সিলের ৭৭তম অধিবেশনের সময় এক সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন। ছবি: এএফপি



ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী মেটে ফ্রেডরিকসেন বলেছেন, গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নিয়ে ডেনমার্ক ‘চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের’ মুখোমুখি। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবারও শক্তি প্রয়োগ করে আর্কটিক অঞ্চলের এই স্বায়ত্তশাসিত ভূখণ্ড দখলের হুমকি দেওয়ার পর তিনি এই সতর্কবার্তা দেন।

ওয়াশিংটন ডিসিতে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল নিয়ে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতা বিষয়ক বৈঠকের আগে ফ্রেডরিকসেন বলেন, গ্রিনল্যান্ডকে ঘিরে একটি সংঘাত তৈরি হয়েছে। এটি কেবল গ্রিনল্যান্ডের ভবিষ্যৎ নয়, এর প্রভাব আরও গভীর। খবর আল জাজিরার। 

ডেনমার্কের অন্যান্য রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে এক আলোচনায় তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্যপূর্ণ।

ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে ডেনমার্কের প্রধানমন্ত্রী লেখেন, আমরা আমাদের মূল্যবোধ রক্ষায় প্রস্তুত—যেখানে প্রয়োজন, সেখানেই, এমনকি আর্কটিক অঞ্চলেও। আমরা আন্তর্জাতিক আইন এবং জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকারে বিশ্বাস করি।

ট্রাম্পের সাম্প্রতিক দাবির বিরুদ্ধে ডেনমার্কের পাশে দাঁড়িয়েছে জার্মানি ও সুইডেন।

সুইডেনের প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন যুক্তরাষ্ট্রের ‘হুমকিমূলক ভাষা’র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ট্রাম্পের এই মন্তব্য (গ্রিনল্যান্ড নিয়ে আমরা কিছু করব, তারা পছন্দ করুক বা না করুক) অগ্রহণযোগ্য।

সুইডেনের সালেন শহরে এক প্রতিরক্ষা সম্মেলনে ক্রিস্টারসন বলেন, সুইডেন, নর্ডিক দেশগুলো, বাল্টিক রাষ্ট্রগুলো এবং ইউরোপের বেশ কয়েকটি প্রধান দেশ আমাদের ডেনিশ বন্ধুদের পাশে রয়েছে।

ক্রিস্টারসন আরও বলেন, খনিজসমৃদ্ধ গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং এতে অন্য দেশগুলোও একই পথে হাঁটতে উৎসাহিত হতে পারে।

ন্যাটো ও আর্কটিক নিরাপত্তা

ওয়াশিংটনে আলোচনার আগে জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়োহান ওয়াদেফুল আইসল্যান্ডে বৈঠক করে ‘দূর উত্তরের কৌশলগত চ্যালেঞ্জ’ নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, আর্কটিক অঞ্চলের নিরাপত্তা দিন দিন আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠছে এবং এটি ন্যাটোর অভিন্ন স্বার্থের অংশ।

এদিকে ব্রিটিশ দৈনিক দ্য টেলিগ্রাফ জানিয়েছে, গ্রিনল্যান্ডে সম্ভাব্য ন্যাটো মিশনের পরিকল্পনা করছে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের কয়েকটি দেশের সামরিক নেতৃত্ব। এই পরিকল্পনায় রাশিয়া ও চীনের সম্ভাব্য হুমকি মোকাবিলায় সেনা, যুদ্ধজাহাজ ও বিমান মোতায়েনের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

যুক্তরাজ্যের পরিবহনমন্ত্রী হেইডি আলেকজান্ডার বলেন, আর্কটিক অঞ্চল ক্রমেই একটি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভূরাজনৈতিক এলাকায় পরিণত হচ্ছে। রাশিয়ার আগ্রাসন ঠেকাতে ন্যাটোর মিত্রদের সঙ্গে আলোচনা করাই স্বাভাবিক।

ফ্রাঙ্কেন বাল্টিক সেন্ট্রি ও ইস্টার্ন সেন্ট্রি অভিযানের মতো একটি সম্ভাব্য ‘আর্কটিক সেন্ট্রি’ মডেলের প্রস্তাব দেন, যেখানে ড্রোন, সেন্সর ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে স্থল ও সমুদ্র পর্যবেক্ষণ করা হবে।

ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, আর্কটিক অঞ্চলে রাশিয়া ও চীনের সামরিক তৎপরতা বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে গ্রিনল্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত জরুরি।

১৯৫৩ সাল পর্যন্ত ডেনমার্কের উপনিবেশ ছিল গ্রিনল্যান্ড। পরে এটি স্বায়ত্তশাসন পায় এবং বর্তমানে ডেনমার্কের সঙ্গে সম্পর্ক শিথিল করার বিষয়টি বিবেচনা করছে।

তবে জরিপে দেখা গেছে, গ্রিনল্যান্ডের জনগণ স্পষ্টভাবে যুক্তরাষ্ট্রের দখল বা নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা করছে।